রাতভর শুঁড় বাড়িয়েও বাঁচানো গেল না সন্তানকে, নয়াগ্রামে কুয়োয় পড়ে হস্তি শাবকের করুণ মৃত্যু! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লোকালয়ে এসে গভীর পাতকুয়োয় পড়ে গেল হস্তি শাবক। অন্ধকারে সন্তানকে উদ্ধারের জন্য রাতভর আপ্রাণ চেষ্টা চালাল মা হাতি ও তার দলবল। কিন্তু মানুষের তৈরি অরক্ষিত পরিকাঠামোর ফাঁদ থেকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না আড়াই বছরের সেই বন্যপ্রাণটিকে। ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের বড়খাঁকড়ি অঞ্চলের বাছুরখোঁয়ার গ্রামের তপোবন জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনা বন্যপ্রাণের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কাঁঠাল খেতে এসে চরম বিপত্তি
বনদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে প্রায় ২৫টি হাতির একটি দল খাবারের সন্ধানে জঙ্গল থেকে লোকালয়ে ঢোকে। রাত আনুমানিক ৩টে নাগাদ একটি ইটভাটার কাছে থাকা কাঁঠাল গাছের দিকে যাওয়ার সময় অন্ধকারের মধ্যে ইটভাটা চত্বরে থাকা একটি গভীর পাতকুয়োয় আচমকাই পড়ে যায় দুই থেকে তিন বছর বয়সী একটি হস্তি শাবক। কুয়োটিতে জল না থাকলেও গভীরতা বেশি হওয়ায় শাবকটি নিজে থেকে উপরে উঠতে ব্যর্থ হয়। সন্তানকে বিপদে পড়তে দেখে মা হাতিসহ পুরো দলটি কুয়োর চারপাশে জড়ো হয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। কখনো শুঁড় বাড়িয়ে, কখনো পা দিয়ে মাটি সরিয়ে তারা শাবকটিকে টেনে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। ভোর হলে হাতির মূল দলটি সরে গেলেও সন্তানের মায়া ত্যাগ করতে না পেরে অসহায় মা হাতিটি দীর্ঘক্ষণ কুয়োর পাড়েই দাঁড়িয়ে থাকে।
উদ্ধার অভিযান ও সম্ভাব্য কারণ
সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বনদপ্তরে খবর দেন। চাঁদাবিলা রেঞ্জের প্রতাপপুর বিটের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে মা হাতিটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেন। এরপর জেসিবি মেশিন এনে কুয়োর একপাশ কেটে উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হস্তি শাবকটিকে। বনদপ্তরের প্রাথমিক অনুমান, রাতভর শাবকটিকে উদ্ধারের চেষ্টায় হাতির দলটি কুয়োর চারপাশে ক্রমাগত হুড়োহুড়ি করায় পায়ের চাপে ধারের মাটি ভেঙে কুয়োর ভেতরে পড়তে থাকে। এই মাটির নিচে চাপা পড়ে শ্বাসকষ্টের কারণেই মূলত শাবকটির মৃত্যু হয়েছে। প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা বনাঞ্চল সংলগ্ন লোকালয়গুলোতে উন্মুক্ত ও পরিত্যক্ত জলাশয় বা পাতকুয়োর বিপদকে আবারও সামনে এনেছে। ইটভাটা বা ফসলি জমিতে সুরক্ষাহীনভাবে রাখা এই ধরনের গভীর কুয়োগুলো বন্যপ্রাণীদের জন্য প্রতিনিয়ত মরণফাঁদ হয়ে উঠছে। হাতির করিডোর বা জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় এমন উদাসীনতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা ও হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
