রাতে ঘুমানোর পর আর ফেরেননি অনেকে! কেন ঘুমের মধ্যেই থমকে যাচ্ছে প্রাণ? জানুন আসল কারণ

রাতে ঘুমানোর পর আর ফেরেননি অনেকে! কেন ঘুমের মধ্যেই থমকে যাচ্ছে প্রাণ? জানুন আসল কারণ

শান্তিপূর্ণ এবং যন্ত্রণাহীন মৃত্যু হিসেবে অনেকে ঘুমের মধ্যে মৃত্যুকে গণ্য করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি বিষয়। দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে ঘুমাতে যাওয়া মানুষের অনেকেরই আর সকাল দেখা হয় না। চিকিৎসাশাস্ত্রে একে ‘নাইট ডেথ’ বা ‘স্লিপ ডেথ’ বলা হয়, যার পেছনে মূলত হার্ট বা মস্তিষ্কের জটিল কোনো সমস্যা দায়ী থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি।

আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান কারণসমূহ

ঘুমের মধ্যে মৃত্যুর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টকে চিহ্নিত করেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাতের বেলা ঘটা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ২২ শতাংশই রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে সংঘটিত হয়। এছাড়া হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক কিংবা হৃৎস্পন্দনের অনিয়ম বা অ্যারিদমিয়ার ফলে শরীরে অক্সিজেনের অভাব ঘটে প্রাণহানি হতে পারে। অন্যদিকে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্তনালীতে ব্লকেজ থেকে হওয়া স্ট্রোক ঘুমের মধ্যে অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি তখন কারো সাহায্য চাওয়ার সুযোগ পান না।

ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতা জরুরি

দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে ঘুমের মধ্যে কার্ডিয়াক ইভেন্টের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া ঘুমের সময় শ্বাসকষ্ট হওয়া বা বুকে চাপ অনুভব করার মতো লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা এই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। বিশেষ করে যাদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের শোয়ার ভঙ্গি এবং চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক।

এক ঝলকে

  • হৃদস্পন্দন হঠাৎ বন্ধ হওয়া বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ঘুমের মধ্যে মৃত্যুর প্রধান কারণ।
  • মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়ে স্ট্রোক করা ঘুমের মধ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।
  • উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল এই ধরনের আকস্মিক মৃত্যুর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
  • রাতে শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড় করার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *