রান্নাঘর থেকে প্রসাধন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আবহে এবার পাম তেলের সংকটে সাধারণ মানুষ! – এবেলা

রান্নাঘর থেকে প্রসাধন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আবহে এবার পাম তেলের সংকটে সাধারণ মানুষ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভারতে ভোজ্য তেলের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে। পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ছাপিয়েও এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাম তেল। ভারত প্রতি বছর প্রায় ৯৫ লক্ষ টন পাম তেল আমদানি করে, যা দেশের মোট ভোজ্য তেলের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে এই আমদানির বড় অংশ আসে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোর নতুন বাণিজ্যিক নীতি ভারতের বাজারে পাম তেলের যোগান কমিয়ে দিতে পারে।

আকাশছোঁয়া হতে পারে নিত্যপণ্যের দাম

পাম তেল কেবল রান্নাতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বিস্কুট, চিপস, চকোলেট থেকে শুরু করে নুডলসের মতো প্যাকেটজাত খাবার তৈরিতে পাম তেল অপরিহার্য। এই তেলের দাম বাড়লে বা যোগান কমলে উৎসবের মৌসুমে মিষ্টি ও ভাজা খাবারের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট এমনকি লিপস্টিকের মতো প্রসাধন সামগ্রী তৈরিতেও পাম তেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে এই তেলের সংকট সরাসরি শিল্পোৎপাদন ও খুচরো বাজারে প্রভাব ফেলবে।

স্বনির্ভরতার অভাব ও সম্ভাব্য প্রভাব

ভারতে বার্ষিক চাহিদার তুলনায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন অত্যন্ত নগণ্য। যেখানে দেশে প্রায় ৯৫ লক্ষ টন পাম তেল ব্যবহৃত হয়, সেখানে উৎপাদন হয় মাত্র ৪ লক্ষ টনেরও কম। পাম চাষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত ও জলের প্রয়োজন হওয়ায় ভারতের ভৌগোলিক পরিবেশে এর ব্যাপক উৎপাদন সম্ভব হয়নি। ইন্দোনেশিয়া নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে রপ্তানিতে কড়াকড়ি শুরু করার ইঙ্গিত দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই সংকটের জেরে পাম তেলের বিকল্প হিসেবে অন্য তেলের চাহিদা বাড়লে সব ধরনের ভোজ্য তেলের বাজার চড়তে পারে, যা সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে টান ফেলবে।

এক ঝলকে

  • ভারত বছরে প্রায় ৯৫ লক্ষ টন পাম তেল আমদানি করে, যার সিংহভাগ আসে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে।
  • ভোজ্য তেলের পাশাপাশি সাবান, শ্যাম্পু এবং প্রসাধনী তৈরিতে পাম তেল অপরিহার্য উপাদান।
  • বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর কড়াকড়িতে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় মাত্র ৪ শতাংশের কাছাকাছি হওয়ায় বিদেশের ওপর নির্ভরতা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *