রামপুরহাটে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, বাংলায় এবার পদ্ম ফুটবেই, পরিবর্তন নিশ্চিত

আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বীরভূমে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। বৃহস্পতিবার জেলার একাধিক কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সিউড়ি থেকে রামপুরহাট— সর্বত্রই ছিল টানটান উত্তেজনা। তবে এদিনের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। রামপুরহাটে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে এসে তিনি স্পষ্ট ভাষায় পরিবর্তনের ডাক দেন। ওড়িশার দৃষ্টান্ত টেনে তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠনে মরিয়া।
বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে রামপুরহাটের পাঁচমাথা মোড় থেকে মহকুমা শাসকের দপ্তর পর্যন্ত পায়ে হেঁটে জনসংযোগ করেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী। এদিন রামপুরহাটের বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহা ছাড়াও হাঁসন, নলহাটি ও মুরারই কেন্দ্রের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেন। মোহন চরণ মাঝি অভিযোগ করেন, বাংলায় দুর্নীতির পাহাড় জমেছে এবং প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তাঁর মতে, অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে এবং প্রকৃত ভারতীয়দের অধিকার রক্ষায় বিজেপি সরকারের কোনো বিকল্প নেই।
অন্যদিকে, ওড়িশায় বাঙালিদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সরাসরি নস্যাৎ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক স্বার্থে মিথ্যাচার করছেন। ওড়িশায় বহু বাঙালি অত্যন্ত নিরাপদে ও মর্যাদার সাথে কাজ করছেন।” তাঁর দাবি, মোদীজির হাত শক্ত করে বাংলাতেও এবার উন্নয়নের জোয়ার আসবে এবং পদ্ম ফুটবেই।
রাজনৈতিক এই লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই শাসকদলও। এদিন সিউড়িতে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় এবং রামপুরহাটে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারা বড় মিছিলের মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শন করে মনোনয়ন জমা দেন। পাল্টা সিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দেখে জয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সব মিলিয়ে মনোনয়ন পর্বেই বীরভূমের রণক্ষেত্রে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল।
