রাম মন্দিরে কোটি টাকার দান নয়ছয়! চম্পত রাইয়ের পদত্যাগে তোলপাড় অযোধ্যা – এবেলা

রাম মন্দিরে কোটি টাকার দান নয়ছয়! চম্পত রাইয়ের পদত্যাগে তোলপাড় অযোধ্যা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অযোধ্যা: কোটি কোটি ভক্তের আবেগ ও বিশ্বাসের পীঠস্থান অযোধ্যার রাম মন্দির। সেই পবিত্র স্থানেই দানবাক্সের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনায় কার্যত স্তম্ভিত দেশ। এই কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে শুধু প্রশাসনিক নয়, প্রবল রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। এসআইটি (SIT) তদন্তের মাঝেই পদত্যাগ করতে হয়েছে ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্রকে।

কীভাবে ফাঁস হলো দুর্নীতি?

ঘটনার সূত্রপাত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে। মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে এক কর্মীকে দান গণনার সময় টাকা চুরি করতে দেখা যায়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই সমাজবাদী পার্টির নেতা পবন পাণ্ডে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাম মন্দিরে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম চলছে। তাঁর দাবি, নগদ অর্থ ও সোনা-রুপোর গয়না মিলিয়ে প্রায় ৭.৫ কোটি টাকার সামগ্রী নয়ছয় করা হয়েছে। আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালদের দাবি, দুর্নীতির পরিমাণ ২০০ কোটি টাকার কম নয়।

ট্রাস্টের চূড়ান্ত গাফিলতি ও ‘অ্যামেচার’ ব্যবস্থাপনা:

তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—

  • অডিট রিপোর্টের অবহেলা: ২০২০ সালের অডিট রিপোর্টে মন্দির পরিচালনার পদ্ধতিকে ‘অত্যন্ত অপেশাদার’ বলা হয়েছিল। উপযুক্ত রেকর্ড বা এসওপি (SOP) না থাকায় চুরির ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করা হলেও ট্রাস্ট তা কানেই তোলেনি।
  • ড্রাইভারের হাতে চাবি: বিস্ময়করভাবে, মন্দিরের দানবাক্সের চাবির দায়িত্ব ছিল চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন ড্রাইভারের হাতে!

এসআইটি (SIT) তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি:

উত্তরপ্রদেশ সরকার ১৪ জুন এসআইটি গঠন করে। ২৫ জুন রাম জন্মভূমি থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ৬ জন সরাসরি দান গণনা ও সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। তবে মূল হোতাদের আড়াল করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে খোদ শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে রাজনৈতিক কর্মীদের বসানোই স্বচ্ছতা নষ্ট হওয়ার মূল কারণ।

রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে যোগী সরকার:

আগামী বছরেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। বিরোধীরা এই ইস্যুকে ‘ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে দেগে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তাদের পদত্যাগ আসলে প্রবল চাপের মুখেই নেওয়া সিদ্ধান্ত। মন্দিরের স্বচ্ছতা ফেরাতে এবার একজন পূর্ণকালীন সিইও (CEO) নিয়োগের ভাবনাচিন্তা চলছে। কিন্তু এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের ‘সুশাসন’ ও স্বচ্ছতার ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা নির্বাচনী সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *