রাম মন্দিরে বিপুল চুরির হদিস, চর্চায় দেশের দুই ব্যতিক্রমী মন্দির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অযোধ্যার রাম মন্দিরে বিপুল পরিমাণ অনুদান চুরির অভিযোগে দেশজুড়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, মন্দিরের নগদ প্রণামী হিসেবে জমা পড়েছে প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে রয়েছে অগণিত সোনা ও রুপোর গয়না। কিন্তু এই বিশাল ধনরাশির এক বড় অংশের কোনো হদিস মিলছে না। তদন্তকারী দলের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই চুরির সূত্রপাত। কেবল এই বছরেই ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুনের মধ্যে অন্তত ৭০ বার চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনা ভক্তদের মনে গভীর আঘাত হেনেছে এবং মন্দির পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
যেখানে প্রসাদ হিসেবে মেলে সোনা-রুপো
রাম মন্দিরের এই নজিরবিহীন দুর্নীতির খবরের মাঝেই দেশের কয়েকটি ব্যতিক্রমী মন্দির নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে। এই মন্দিরগুলোতে প্রণামী নেওয়ার বদলে পুণ্যার্থীদের প্রসাদ হিসেবে সোনা, রুপোর গয়না বা কয়েন দেওয়া হয়। তামিলনাড়ুর থেনি জেলায় অবস্থিত পাহাড় ঘেরা শ্রী ভারামথারুম মালিগাইপাড়াই কারুপ্পাস্বামী মন্দিরটি এর মধ্যে অন্যতম। এখানে ঈশ্বরের আশীর্বাদ হিসেবে ভক্তদের হাতে পবিত্র মুদ্রা তুলে দেওয়া হয়, যা ‘পিডি কাসু’ নামে পরিচিত। ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা আইনি সমস্যা সমাধানের আশায় বহু মানুষ প্রতি বৃহস্পতি, শুক্রবার এবং অমাবস্যা-পূর্ণিমায় এখানে ভিড় জমান। এই প্রসাদ পেয়ে ভক্তরা তা ব্যবহার না করে পরম যত্নে বাড়িতে গয়নার বাক্সে রেখে দেন, কারণ তাঁদের অগাধ বিশ্বাস এটি ঘরে থাকলে ধনসম্পদ আরও বৃদ্ধি পায়।
ধনসম্পদে মোড়া মহালক্ষ্মী মন্দির
অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের রতলামের মহালক্ষ্মী মন্দিরে রয়েছে আরেক বিস্ময়কর প্রথা। বিশেষ তিথিতে সাধারণত ফুল দিয়ে মন্দির সাজানো হলেও, এখানে মন্দির সাজানো হয় কোটি কোটি টাকার নোট এবং সোনা-রুপোর গয়না দিয়ে। দীপাবলির সময় লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মন্দিরে ভিড় করেন এবং মূল্যবান গয়না ও নগদ টাকা দেবীর চরণে দান করেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, উৎসব শেষ হওয়ার পর ভক্তদের দান করা সেই অর্থ ও গয়না তাঁদেরকেই আশীর্বাদ হিসেবে ফেরত দেওয়া হয়।
রাম মন্দিরে বিপুল চুরির অভিযোগ যেখানে ধর্মীয় অনুদানের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে, সেখানে দেশের এই ব্যতিক্রমী মন্দিরগুলি ভক্ত ও ভগবানের মধ্যকার নিঃস্বার্থ ভক্তি ও বিশ্বাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে। প্রসাদ হিসেবে সাধারণ মিষ্টি বা ফলের বদলে মূল্যবান সম্পদ বিতরণের এই প্রথা যেমন অবাক করার মতো, তেমনই তা পুণ্যার্থীদের বিশ্বাসের শিকড়কে আরও মজবুত করছে।
