রাষ্ট্রপতি ভবনে নারীশক্তি: ইতিহাস গড়ে দ্রৌপদী মুর্মুর এড-ডি-ক্যাম্প মেজর নব্য শেখাওয়াত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 16, 20261:32 pm
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন ঐতিহাসিক মাইলফলক। দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ‘এড-ডি-ক্যাম্প’ বা এডিসি হিসেবে নিযুক্ত হলেন মেজর নব্য শেখাওয়াত। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম কোনও মহিলা আধিকারিক হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হয়ে অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি।
দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধানের সুরক্ষাবলয়, প্রোটোকল এবং সরকারি কর্মসূচি সামলানোর ক্ষেত্রে নারীদের এই অন্তর্ভুক্তি সশস্ত্র বাহিনীতে নারীশক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই এক উজ্জ্বল নিদর্শন। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সহায়তায় মোট পাঁচজন এডিসি থাকেন—যার মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে তিনজন এবং নৌ ও বিমানবাহিনী থেকে একজন করে প্রতিনিধি থাকেন। রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান পরিচালনা, কঠোর সামরিক প্রোটোকল রক্ষা এবং সামরিক ও অসামরিক শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এই আধিকারিকেরা।
ইউপিএসসি-র কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসেস (সিডিএস) পরীক্ষার মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে নিজের যাত্রা শুরু করেছিলেন নব্য শেখাওয়াত। চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাদেমিতে কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে ২০২১ সালে তিনি ভারতীয় সেনার ‘আর্মি সার্ভিস কোর’-এ যোগ দেন। নিজের যোগ্যতায় দ্রুত মেজর পদে পদোন্নতি পেয়ে মাত্র পাঁচ বছরের সামরিক কর্মজীবনে, ২০২৬ সালে সোজা রাষ্ট্রপতি ভবনে দায়িত্ব পালনের বিরল গৌরব অর্জন করেন তিনি।
সেনাবাহিনী থেকে তিনি প্রথম হলেও, সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির এডিসি হওয়া দ্বিতীয় মহিলা আধিকারিক হলেন মেজর নব্য। এর আগে ২০২৫ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কম্যান্ডার যশস্বী সোলাঙ্কি প্রথম মহিলা এডিসি হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। ১৯৯২ সালে সেনায় নারীদের প্রবেশের পর থেকে ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক স্থায়ী কমিশন (Permanent Commission) সংক্রান্ত ঐতিহাসিক রায়—সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলাদের ক্ষমতায়নের যে পথ প্রশস্ত করেছিল, মেজর নব্য শেখাওয়াতের এই অভূতপূর্ব সাফল্য তারই এক অন্যতম নিদর্শন।
