রিয়েলিটি শো কি সত্যিই প্লেব্যাক সিঙ্গার তৈরি করতে পারে, আশা ভোঁসলের সেই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে চর্চা

কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে সঙ্গীত জগতের এক মহীরুহ। ৯২ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সঙ্গীত এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হলো। জীবনভর সুরের সাধনায় মগ্ন এই শিল্পী প্লেব্যাক সিঙ্গার বা নেপথ্য গায়কদের ভবিষ্যৎ এবং বর্তমানের রিয়েলিটি শো নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন।
রিয়েলিটি শো বনাম প্লেব্যাক গায়কী
২০২২ সালে কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে এসে রিয়েলিটি শো এবং সিনেমার গান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন আশাজি। তাঁর মতে, বর্তমানে রিয়েলিটি শোগুলো নতুন প্রতিভাবান গায়ক খুঁজে বের করতে সক্ষম হলেও তারা প্রকৃত ‘প্লেব্যাক সিঙ্গার’ তৈরি করতে পারছে না। তিনি মনে করতেন, স্টেজে পারফর্ম করা আর সিনেমার জন্য গান গাওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।
কেন প্লেব্যাক শিল্পী হওয়া কঠিন সাধনা
আশা ভোঁসলে বিশ্বাস করতেন, সিনেমার নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হওয়া কেবল সুরেলা গলার বিষয় নয়, এটি একটি বিশেষ সাধনা। তাঁর বিশ্লেষণের মূল দিকগুলো হলো:
- ভিন্নধর্মী গায়কী: স্টেজ পারফরম্যান্স মূলত দর্শককে তাত্ক্ষণিক বিনোদন দেওয়ার জন্য, কিন্তু প্লেব্যাক গায়কদের পর্দার চরিত্রের আবেগ ও পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের কণ্ঠকে খাপ খাওয়াতে হয়।
- কঠোর পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতা: একজন প্লেব্যাক শিল্পীকে কয়েক প্রজন্মের নায়িকাদের জন্য কণ্ঠ দিতে হয়। মধুবালা থেকে শুরু করে করিনা কাপুর— সবার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই গায়কী ফুটিয়ে তোলার জন্য যে গভীর চিন্তাভাবনা প্রয়োজন, তা রিয়েলিটি শোর মঞ্চে তৈরি হওয়া সম্ভব নয়।
- মানসিক প্রস্তুতি: প্লেব্যাক সিঙ্গারের কাজের ধরন ও মানসিকতা সাধারণ শিল্পীদের চেয়ে অনেক বেশি আলাদা এবং পেশাদার হতে হয়।
রাহুল দেব বর্মণ ও বাংলার প্রতি টান
নিজের সংগীত জীবনে বৈচিত্র্য বজায় রাখতে তিনি সবসময় সচেষ্ট ছিলেন। কলকাতায় তাঁর শেষ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল প্রয়াত কিংবদন্তি সুরকার রাহুল দেব বর্মণের (পঞ্চম দা) গাওয়া আটটি গান নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করা। ‘পঞ্চম তুমি কোথায়’ নামের এই অ্যালবামটি তিনি দুর্গাপুজোর উপহার হিসেবে অনুরাগীদের জন্য সাজিয়েছিলেন।
অবিস্মরণীয় কণ্ঠের জাদু
সাদাকালো যুগ থেকে রঙিন পর্দা, হেলেন ও আশা পারেখ থেকে শুরু করে ঊর্মিলা মাতন্ডকর— প্রত্যেকের জন্য তিনি কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন। ‘দম মারো দম’, ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ কিংবা ‘য়াই রে য়াই রে’-এর মতো গানগুলো আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিদেশের মাটিতে হাজার হাজার দর্শকের সামনে লাইভ অনুষ্ঠান করে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
এক ঝলকে
- রিয়েলিটি শো নতুন প্রতিভা খুঁজে দেয় কিন্তু প্লেব্যাক সিঙ্গার তৈরি করতে পারে না।
- সিনেমার গানের জন্য বিশেষ সাধনা ও চরিত্রের সঙ্গে কণ্ঠ মেলানোর দক্ষতা প্রয়োজন।
- আশা ভোঁসলে ৯২ বছর বয়সে জীবনের শেষ অধ্যায় পর্যন্ত সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- পঞ্চম দাকে উৎসর্গ করে তাঁর শেষ বাংলা অ্যালবাম ‘পঞ্চম তুমি কোথায়’ রেকর্ড করেছিলেন।
- কয়েক দশক ধরে তিনি মধুবালা থেকে করিনা কাপুর পর্যন্ত সব প্রজন্মের নায়িকাদের প্লেব্যাক করেছেন।
