রেকর্ড ভাঙল ভারতের পাইকারি মূল্যস্ফীতি, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের!

রেকর্ড ভাঙল ভারতের পাইকারি মূল্যস্ফীতি, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের!

মূল্যস্ফীতির চাপে ভারতের অর্থনীতি: ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় এক বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড

বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের অর্থনীতির ওপর। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ভারতের পাইকারি মূল্যস্ফীতি (WPI) একলাফে ৩.৮৮ শতাংশে পৌঁছেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই হার ছিল ২.১৩ শতাংশ। গত ১২ মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির হার, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

মূল্যস্ফীতির নেপথ্যের কারণসমূহ

মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের প্রত্যাশা ছিল মূল্যস্ফীতি হয়তো ৩.০৪ শতাংশের আশেপাশে সীমাবদ্ধ থাকবে, কিন্তু বাস্তব চিত্র সেই পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গেছে। প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • জ্বালানি তেলের দাম: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পাইকারি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
  • খাদ্যপণ্যের দাম: দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির হারকে ত্বরান্বিত করেছে।
  • খুচরা পর্যায়ে প্রভাব: পাইকারি বাজারের এই উত্তাপ শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারেও (CPI) ছড়িয়ে পড়েছে। খুচরা মুদ্রাস্ফীতি ৩.২১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালী ও জ্বালানি সংকট

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহনের পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর।

আরবিআই-এর সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণ

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) মুদ্রা নীতি কমিটি (MPC) আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। এপ্রিলের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ভিত মজবুত থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ‘বাহ্যিক ধাক্কা’ কাটিয়ে ওঠা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য গড় মূল্যস্ফীতি ৪.৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও, আগামী মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির হার ওঠানামা করার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আরবিআই প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এক ঝলকে

  • মার্চের পাইকারি মূল্যস্ফীতি (WPI): ৩.৮৮ শতাংশ (গত ১২ মাসের সর্বোচ্চ)।
  • ফেব্রুয়ারি মাসের হার: ২.১৩ শতাংশ।
  • খুচরা মুদ্রাস্ফীতি (CPI): ৩.৪ শতাংশ।
  • মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ: অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি।
  • ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব: ইরান-ইসরায়েল উত্তজনা ও হরমুজ প্রণালীর সংকট।
  • আরবিআই-এর পূর্বাভাস: ২০২৭ অর্থবর্ষে গড় মূল্যস্ফীতি ৪.৬ শতাংশ থাকার সম্ভাবনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *