লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দিন শেষ? এবার মাসে ৩০০০ টাকা! জেনে নিন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে আবেদনের খুঁটিনাটি

রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড়সড় রদবদলের পর এবার সাধারণ মানুষের নজর আটকে রয়েছে নতুন সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোর ওপর। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠিত হওয়ার পরেই চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
ভাতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড
বিগত সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে এক হাজার টাকা (পরবর্তীতে বৃদ্ধি করা হয়) এবং সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলারা ১২০০ টাকা পর্যন্ত পেতেন। তবে নতুন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই রাজ্যের সকল যোগ্য মহিলার সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। মূলত রাজ্যের নারীশক্তির আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
আবেদন প্রক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি
আগামী ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর বিশেষ দিনে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। সরকারিভাবে কার্যভার গ্রহণের পরেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলি এবং আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও নির্দিষ্টভাবে আবেদনের পদ্ধতি বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে যে, সরকারি ঘোষণা ও ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগে কোথাও ব্যক্তিগত তথ্য বা ব্যাঙ্ক ডিটেইলস শেয়ার করা উচিত নয়।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ ও শহরতলীর নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। মাসে ৩ হাজার টাকা সরাসরি হাতে আসায় মহিলারা ছোটখাটো পারিবারিক প্রয়োজনে বা ক্ষুদ্র ব্যবসায় এই পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারবেন। তবে এই বিপুল পরিমাণ ভাতার সংস্থান করতে গিয়ে রাজ্যের কোষাগারে কী ধরনের চাপ পড়বে এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ সচল রেখে কীভাবে এই বিশাল অর্থ বিলি করা হবে, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্পের রূপরেখা স্পষ্ট হতে পারে।
