লক্ষ্মীলাভের মেগা টুর্নামেন্ট! পুরুষদের সমান পুরস্কার মূল্যে ইতিহাস গড়ছে ২০২৬ মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ – এবেলা

লক্ষ্মীলাভের মেগা টুর্নামেন্ট! পুরুষদের সমান পুরস্কার মূল্যে ইতিহাস গড়ছে ২০২৬ মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে ২০২৬ মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ। ৫ জুলাই পর্যন্ত চলতে থাকা এই মেগা ইভেন্টে ১২টি দল মোট ৩৩টি ম্যাচে মুখোমুখি হবে। তবে এবারের বিশ্বকাপের মূল আকর্ষণ কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং এর আকাশছোঁয়া পুরস্কার মূল্য। পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটের বৈষম্য ঘুচিয়ে এবার আইসিসি যে প্রাইজ মানি ঘোষণা করেছে, তা ক্রীড়া বিশ্বে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এবারের টুর্নামেন্টের মোট পুরস্কার মূল্য ৮৭,৬৪,৬১৫ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা। গত মরশুমের তুলনায় এই আর্থিক অঙ্ক প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রেকর্ড টাকার বৃষ্টি চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দলের ওপর

এবারের বিশ্বজয়ী দল ট্রফির পাশাপাশি পাবে ২,৩৪০,০০০ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৬৫ কোটি টাকা। এই অঙ্কের বিশালত্ব বোঝাতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। গত মহিলা আইপিএল (WPL) চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) পেয়েছিল ২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এবার বিশ্বকাপজয়ীরা আরসিবির তুলনায় তিন গুণেরও বেশি অর্থ ঘরে তুলবে। অন্যদিকে, ফাইনালে পরাজিত রানার্স আপ দলটিও বিপুল অঙ্কের অর্থ পাবে। তাদের জন্য বরাদ্দ ১,১৭০,০০০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩২ কোটি টাকা, যা গত ডব্লিউপিএল চ্যাম্পিয়নের পুরস্কার মূল্যের চেয়ে ১২ কোটি টাকা বেশি।

সেমিফাইনালিস্ট ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রাপ্তি

অর্থের এই জোয়ার শুধু ফাইনালিস্টদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। যে দলগুলো সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে, তাদের প্রত্যেককে ৬৭৫,০০০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা) করে দেওয়া হবে। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী বাকি দলগুলো খালি হাতে ফিরবে না, তারা প্রত্যেকে পাবে ৭ কোটি টাকা করে। এছাড়া গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো বোনাস হিসেবে পাবে আনুমানিক ৯০ লাখ টাকা।

পুরস্কার মূল্য বৃদ্ধির কারণ ও ক্রিকেটে এর প্রভাব

আইসিসি বেশ কিছুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লিঙ্গবৈষম্য দূর করার এবং পুরুষ ও মহিলা দলের পুরস্কার মূল্য সমান করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই বিপুল আর্থিক বৃদ্ধি সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই বাস্তব প্রতিফলন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে নারী ক্রিকেটের গ্রহণযোগ্যতা ও পেশাদারিত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং উদীয়মান নারী ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে আরও বহু মেয়ে ক্রিকেটকে মূল পেশা হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহিত হবে, যা সামগ্রিকভাবে বিশ্ব ক্রিকেটের মানকে আরও উন্নত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *