লক-আপ থেকেই ভোটযুদ্ধ! নন্দীগ্রামে গ্রেফতার আন্দোলনের মুখ মিলন, সমর্থনে পাশে মমতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 21, 202612:32 pm
সাধারণত উপনির্বাচন নিয়ে খুব একটা বড় রাজনৈতিক জলঘোলা দেখা যায় না, শাসকের জয়েই সিলমোহর পড়ে। কিন্তু নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন এবার জাতীয় রাজনীতির শিরোনামে। ভোটের মুখেই পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। তবে দমে না গিয়ে লক-আপে থেকেই নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আর তাঁর সমর্থনে পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কে এই মিলন প্রধান? ২০০৭ সালের বাম আমলে নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের প্রথম সারির মুখ ছিলেন মিলন প্রধান। ‘ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি’র আহ্বায়ক হিসেবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।
- একদা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিলন পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও স্নেহধন্য হয়ে ওঠেন।
- আন্দোলনের সময় সোনাচূড়ায় তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হলে প্রাণ বাঁচাতে পরিবারসহ ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাঁকে।
- ২০০৭ সালের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় যে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল, তাতে মিলনের নামও ছিল।
মনোনয়ন প্রত্যাহার ও মমতার সমর্থন নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান আচমকা প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সমীকরণে বড় রদবদল ঘটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আসনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানানোর ঘোষণা দেন। তবে সমর্থন ঘোষণার পরেই একটি পুরনো মামলায় পুলিশ মিলনকে গ্রেফতার করে জেল হেফাজতে পাঠায়।
তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া মিলন প্রধানের গ্রেফতারি ঘিরে ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে সুর চড়েছে:
- মল্লিকার্জুন খাড়গে (কংগ্রেস সভাপতি): সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে খাড়গে জানান, এটি সরাসরি ‘ভোট চুরি’র অপচেষ্টা। বিজেপি পরাজয়ের আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও পুলিশকে দিয়ে বিরোধী প্রার্থীকে নিশানা করছে।
- শুভঙ্কর সরকার (প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি): তাঁর অভিযোগ, মিলনকে ক্রমাগত মনোনয়ন তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য পুলিশের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (বিরোধী দলনেতা): অন্যদিকে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতার দাবি, মিলনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সাল থেকে ৩টি খুনের মামলা ঝুলছিল। আদালতের জারি করা বকেয়া পরোয়ানা মেনেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।
সব মিলিয়ে, একসময়ের আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র নন্দীগ্রাম ফের একবার জেল বনাম ভোটের ময়দানের মুখোমুখি লড়াইয়ে সরগরম।
