‘লড়াই শেষ হয়নি’, ব্রিজভূষণ খালাস পেতেই হাইকোর্টে যাওয়ার বড় বার্তা বিনেশ ফোগতের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: ভারতীয় কুস্তি সংস্থার (WFI) প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিং যৌন হেনস্থার মামলা থেকে খালাস পেলেও এই আইনি লড়াই থামছে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ভারতের তারকা কুস্তিগির বিনেশ ফোগত। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত ব্রিজভূষণ এবং প্রাক্তন WFI সহকারী সচিব বিনোদ তোমরকে বেকসুর খালাস দেওয়ার পর গভীর হতাশা ব্যক্ত করার পাশাপাশি উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন তিনবারের কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী এই অ্যাথলিট।
আদালতের রায়ের পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিনেশ লেখেন, “ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে এবং তদন্ত শুরু করতেই আমাদের রাস্তায় নেমে আন্দোলনে বসতে হয়েছিল। তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে বহু তরুণী কুস্তিগিরকে আইনি লড়াই থেকে সরে আসতে বাধ্য করা হয়। তবুও কিছু সাহসি মহিলা কুস্তিগির পিছু হটেননি।”
ক্ষোভ প্রকাশ করে বিনেশ আরও বলেন, “যৌন হেনস্থার মতো গুরুতর মামলায় ব্রিজভূষণকে যেভাবে মুক্তি দেওয়া হল, তাতে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। শুরু থেকেই প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার বড় অংশ তাঁকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। তবে আমরা আশা হারাইনি—উচ্চ আদালতে আইনি পথেই বিচার পাওয়ার লড়াই জারি থাকবে।”
কী ঘটেছিল এবং মামলার পেছনের প্রেক্ষাপট?
এই আইনি লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল ২০২৩ সালে। ভারতীয় কুস্তির শীর্ষ তারকা বিনেশ ফোগত, সাক্ষী মালিক ও বাজরং পুনিয়াসহ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক পদকজয়ী কুস্তিগির দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা আন্দোলনে নামেন। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল—জাতীয় কুস্তি সংস্থার সভাপতি পদে থাকাকালীন ব্রিজভূষণ শরণ সিং একাধিক মহিলা কুস্তিগিরকে যৌন হেনস্থা করেছেন।
ব্যাপক আন্দোলনের মুখে দিল্লি পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে এবং আদালতে প্রায় ১,৫০০ পাতার চার্জশিট জমা দেয়। তবে রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট অশ্বিনী পানওয়ার দীর্ঘ শুনানির পর সাক্ষীদের বয়ান ও তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্ত ঘোষণা করেন।
রায়ের পর ব্রিজভূষণের প্রতিক্রিয়া
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ব্রিজভূষণ শরণ সিং। তিনি বলেন, “আমি প্রথম দিন থেকেই বলে আসছিলাম, আমার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে আমি সব ধরনের কঠোর শাস্তি মেনে নেব। আজ আদালত আমাকে সসম্মানে মুক্তি দিয়েছে। এটি আমার এবং আমার সমর্থকদের জন্য সত্যের জয় ও অত্যন্ত আনন্দের দিন।”
তবে নিম্ন আদালতের এই রায়ে আইনি জটিলতা শেষ হচ্ছে না। বিনেশ ফোগতের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী মহিলা কুস্তিগিররা তাঁদের আইনজীবীদের ইতিমধ্যেই উচ্চ আদালতে আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং খুব শীঘ্রই সেই আপিল দায়ের করা হবে।
