লন্ডনের গানার্সদের কাঁদিয়ে ইউরোপের রাজসিংহাসন ধরে রাখল প্যারিস – এবেলা

লন্ডনের গানার্সদের কাঁদিয়ে ইউরোপের রাজসিংহাসন ধরে রাখল প্যারিস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল ম্যাচটি ছিল এক চরম স্নায়ুযুদ্ধের মহাকাব্য। নির্ধারিত এবং অতিরিক্ত সময়ের টানটান লড়াই শেষে আর্সেনালকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপসেরার মুকুট পরল প্যারিস সাঁ জারমাঁ (পিএসজি)। গতবারের শিরোপা জয় যে কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, লুইস এনরিকের দল তা প্রমাণ করে ছাড়ল। অন্যদিকে ২০০৬ সালের পর আবার ফাইনালে উঠেও ইউরোপের অধরা ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্নভঙ্গ হলো মিকেল আর্তেতার আর্সেনালের।

হাভার্ৎজের ঝোড়ো শুরু ও ডেম্বেলের পেনাল্টিতে প্রত্যাবর্তন

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য অন্যরকম ইঙ্গিত দিচ্ছিল। মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই কাই হাভার্ৎজের বাঁ-পায়ের জোরালো শটে লিড নেয় আর্সেনাল। প্রথমার্ধে উইলিয়াম সালিবা ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের জমাট রক্ষণের সামনে পিএসজির ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেসদের মাঝমাঠের সমস্ত পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে থাকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খভিচা কাভারৎস্কেলিয়াকে বক্সে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। ৬২ মিনিটে স্পটকিক থেকে উসমান ডেম্বেলে ঠান্ডা মাথায় গোল করে প্যারিসকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারক টাইব্রেকার শুটআউটে।

টাইব্রেকারের চরম নাটকীয়তা ও নতুন শক্তির উত্থান

পেনাল্টি শুটআউটের রোমাঞ্চকর মুহূর্তে আর্সেনালের এবেরেচি এজে শট মিস করলে শুরুতেই চাপে পড়ে গানার্সরা। যদিও পিএসজির নুনো মেন্ডেসের শট রুখে দিয়ে আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া আশা জাগিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পিএসজির লুকাস বেরালদো গোল করার পর আর্সেনালের ব্রাজিলীয় ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের শেষ শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে প্যারিস। এই জয়ের ফলে আধুনিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে টানা দু’বার শিরোপা ধরে রাখার অনন্য কীর্তি গড়ল পিএসজি, যা বিশ্ব ফুটবলে প্যারিসের নতুন এক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *