লাদাখে একলাফে বাড়ল ৫ জেলা: উন্নয়নের ছক নাকি বৌদ্ধ-মুসলিম ঐক্য ভাঙার কৌশল? তুঙ্গে বিতর্ক!

লাদাখের প্রশাসনিক মানচিত্রে বড় বদল এনে পাঁচটি নতুন জেলা ঘোষণা করল কেন্দ্র। শাম, চাংথাং, নুব্রা, জান্সকার ও দ্রাস যুক্ত হওয়ায় লাদাখে এখন মোট জেলার সংখ্যা দাঁড়াল সাত। গ্রাসরুট গভর্ন্যান্স বা তৃণমূল স্তরে প্রশাসনিক শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে রাজনিবাস। পাহাড়ি দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের প্রশাসনিক কাজের জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে লেহ বা কার্গিলে যাওয়ার ভোগান্তি কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সীমানা নির্ধারণ ও বিতর্কের সূত্রপাত
নতুন জেলা বিন্যাস ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, মুসলিম প্রধান কার্গিল জেলা ৮০টি গ্রাম নিয়ে বৃহত্তম প্রশাসনিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে বৌদ্ধ অধ্যুষিত লে-তে রয়েছে ৪৪টি গ্রাম। এই আসাম বিভাজন এবং জনসংখ্যার বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অধিকার কর্মীরা। বিশেষ করে কার্গিলের আইনজীবী মুস্তাফা হাজি সোশ্যাল মিডিয়ায় এলাকা চিহ্নিতকরণের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন বিরোধীদের একাংশ। মিম প্রধান আসাউদ্দিন ওয়াইসির দাবি, লাদাখের বৌদ্ধ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের যৌথ আন্দোলনকে দুর্বল করতেই এই মানচিত্র বদল। তাঁর মতে, নতুন জেলার মধ্যে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বেশি থাকায় এটি সম্প্রদায়ের ঐক্য ভাঙার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। যদিও প্রশাসনের দাবি, এই রদবদল শুধুমাত্র প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নকে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- লাদাখে নতুন ৫টি জেলা গঠিত হওয়ায় মোট জেলার সংখ্যা এখন ৭।
- প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য শাম, চাংথাং, নুব্রা, জান্সকার ও দ্রাস জেলা গঠন।
- মুসলিম প্রধান কার্গিলে গ্রামের সংখ্যা সর্বাধিক হওয়ায় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
- তৃণমূল স্তরে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
