লালকেল্লা নয়, মূল টার্গেট ছিল বিখ্যাত মন্দির! দিল্লি বিস্ফোরণে NIA-র চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 10, 20267:34 pm
দিল্লির সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিস্ফোরণ কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। তদন্তকারীদের পেশ করা চার্জশিট অনুযায়ী, জঙ্গিদের মূল নিশানায় লালকেল্লা ছিলই না! তাদের আসল ‘প্ল্যান এ’ ছিল চাঁদনি চকের ঐতিহাসিক শ্রী দিগম্বর জৈন লাল মন্দির।
যানজটের ফলেই রক্ষা পেল প্রাচীন মন্দির চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে বিস্ফোরকভর্তি একটি সাদা আই-২০ (i20) গাড়ি নিয়ে জৈন মন্দিরের কাছে পৌঁছেছিল আত্মঘাতী জঙ্গি উমর-উন-নবি। ভিড়ে ঠাসা মন্দিরের সামনে গাড়ি পার্ক করে ভয়াবহ নাশকতার ছক ছিল তার। কিন্তু চাঁদনি চকের তীব্র যানজট এবং সামনে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি দেখে আতঙ্কে পড়ে যায় সে। গাড়ি পার্কের কোনো সুযোগ না পেয়ে তড়িঘড়ি ইউ-টার্ন নিতে বাধ্য হয় আততায়ী।
১৩ মিনিটের ব্যবধানে ‘প্ল্যান বি’ মন্দির চত্বর থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে ঠিক ১৩ মিনিট পর, অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে গাড়িটি লালকেল্লার ৪ নম্বর গেটের সামনে পৌঁছায়। সেখানেই ঘটানো হয় বিকট বিস্ফোরণ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২৯ জন গুরুতর আহত হন। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় মেট্রো স্টেশনসহ আশপাশের অবকাঠামো।
জুতোয় গোপন রিমোট, প্রাণঘাতী রাসায়নিক ফরেনসিক ও তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে আরও এক ভয়ঙ্কর তথ্য। হামলাকারী কোনো সাধারণ সুইচ নয়, বরং তার জুতোর হিলে বসানো এক গোপন রিমোট কমান্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে বিস্ফোরকটির ডেটোনেশন ঘটিয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে জুতোর ধাতব টুকরো এবং TATP ও অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো প্রাণঘাতী রাসায়নিকের উপস্থিতি মেলায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এনআইএ।
এনআইএ জানিয়েছে, হামলাকারী নিজের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্দিরের প্রবেশপথে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারলে হতাহতের সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকত তা ভাবাই যায় না। দিল্লির যে যানজট প্রতিদিন মানুষের বিরক্তির কারণ হয়, সেদিন সেই যানজট আর পুলিশের সতর্কতার কারণেই এক বিভীষিকাময় রক্তগঙ্গা থেকে বেঁচে যায় ঐতিহাসিক এই উপাসনালয়।
