লালবাজারের বড় পদক্ষেপ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাঁচে সাজছে কলকাতা পুলিশ – এবেলা

লালবাজারের বড় পদক্ষেপ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাঁচে সাজছে কলকাতা পুলিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শহরের যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আরও শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে আধুনিকীকরণের পথে হাঁটছে লালবাজার। দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত আধুনিক নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের সরঞ্জামের তুলনামূলক বিশ্লেষণে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। হেলমেট, শিল্ড, বডি প্রোটেক্টর, নন-লিথাল অস্ত্র, রাবার বুলেট, ওয়াটার ক্যানন এবং ‘বজ্র’-এর মতো রায়ট কন্ট্রোল যান-সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম খতিয়ে দেখে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুগ্ম কমিশনার অব পুলিশ (মডার্নাইজেশন) নীলাঞ্জন বিশ্বাসের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন ষষ্ঠ ব্যাটেলিয়নের ডেপুটি কমিশনার দেবাশিস দাস। কেন্দ্রীয় বাহিনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কী ধরনের উন্নত প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে এবং কলকাতা পুলিশের বর্তমান পরিকাঠামোর সঙ্গে তার কী ফারাক রয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।

উদ্যোগের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

লালবাজারের সরকারি নির্দেশিকায় এই আকস্মিক আধুনিকীকরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা না হলেও, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে এর প্রধান সূত্র অনুমিত ধরা হচ্ছে। কিছু দিন আগেই পার্ক সার্কাস এলাকায় একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়, যেখানে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত কলকাতা পুলিশকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে শহরের বুকে এই ধরনের বড় মাপের আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা এড়াতে এবং নিজস্ব বাহিনীকে স্বাবলম্বী করতেই এই আগাম প্রস্তুতি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমকক্ষ আধুনিক সরঞ্জাম হাতে পেলে কলকাতা পুলিশের কার্যক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে। এর ফলে যে কোনো উগ্র আন্দোলন বা দাঙ্গা পরিস্থিতি কম সময়ে এবং ন্যূনতম ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে, যা শহরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *