শরীরে ট্যাটু থাকলে কি সরকারি চাকরি পাওয়া যাবে না, জেনে নিন আসল নিয়ম – এবেলা

শরীরে ট্যাটু থাকলে কি সরকারি চাকরি পাওয়া যাবে না, জেনে নিন আসল নিয়ম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তরুণ প্রজন্মের মাঝে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি করানোর প্রবণতা এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে এই ট্রেন্ডে গা ভাসানোর আগে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে শরীরে ট্যাটু থাকলে সরকারি চাকরি পাওয়া যায় কি না। আসল তথ্য হলো, সরকারি চাকরিতে ট্যাটু সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, তবে এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম ও শর্ত।

ট্যাটু নিয়ে আপত্তির কারণ

সরকারি চাকরিতে ট্যাটু করার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করার প্রধান কারণ হলো পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং একটি মার্জিত চেহারা বজায় রাখা। এর পাশাপাশি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখাও অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষের সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এড়াতে আপত্তিকর, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় প্রতীক যুক্ত ট্যাটু সরকারি চাকরিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চাকরিপ্রার্থীদের সবসময় পরামর্শ দেওয়া হয় তারা যেন শরীরে কোনো স্থায়ী ট্যাটু না করান। যদি ট্যাটু থাকেও, তবে তা এমন জায়গায় হওয়া উচিত যা পোশাকের নিচে ঢাকা থাকে।

বিভিন্ন বিভাগের ভিন্ন নিয়ম

শিক্ষকতা এবং ক্লারিকাল চাকরিতে ট্যাটু সাধারণত গ্রহণযোগ্য, তবে শর্ত হলো তা যেন মার্জিত হয় এবং পোশাকের বাইরে থেকে দেখা না যায়। রেলওয়ে, এসএসসি বা ব্যাঙ্কিং সেক্টরেও দৃশ্যমান এবং আপত্তিকর ট্যাটু কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলেও পোশাকে ঢাকা থাকা সাধারণ ট্যাটু মেনে নেওয়া হয়।

অন্য দিকে, প্রতিরক্ষা ও পুলিশ বাহিনীর ক্ষেত্রে নিয়ম অনেক বেশি কড়া। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে (আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স) কনুইয়ের নিচে, হাতের ভিতরের অংশে এবং হাতের তালুর পেছনের অংশে ছোট ট্যাটুর অনুমতি দেওয়া হয়। তবে মুখমণ্ডল, ঘাড় বা শরীরের অন্য কোনো দৃশ্যমান অংশে ট্যাটু থাকলে সরাসরি অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে। বিএসএফ, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ ও আইটিবিপি-র মতো বাহিনীগুলোতেও কেবল শরীরের ঢাকা অংশে থাকা ছোট ট্যাটুই অনুমোদিত।

ট্যাটু অপসারণের সুযোগ

কোনো প্রার্থীর শরীরে দৃশ্যমান ট্যাটু থাকলে তা অস্ত্রোপচার বা লেজারের মাধ্যমে তুলে ফেলে সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব। মেডিক্যাল টেস্ট বা শারীরিক পরীক্ষার সময় যদি ট্যাটুটি আর দৃশ্যমান না থাকে, তবে কর্তৃপক্ষ সেটি গ্রহণ করে। ট্যাটু তোলার পর চামড়ায় সামান্য আবছা দাগ বা স্কার থাকলে সাধারণত সেটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তবে প্রার্থীদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে পূর্বের ট্যাটুটি মুখ বা ঘাড়ের মতো সংবেদনশীল ও অতি দৃশ্যমান অংশে ছিল না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *