শান্তি চুক্তির মাঝেই হরমুজে বারুদের গন্ধ! আমেরিকার হামলায় ফুঁসছে ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা?

গত ৭ এপ্রিল হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির স্থিতাবস্থা ভেঙে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পারস্য উপসাগর। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনী এবং ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি গোলাগুলি বিনিময়ের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক মাসের মধ্যে এটিই সবথেকে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। আমেরিকার দাবি, ওই পরিকাঠামো ব্যবহার করে পণ্যবাহী ও যুদ্ধজাহাজে হামলার ছক কষছিল ইরান। অন্যদিকে, তেহরান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছে, মার্কিন বিমান হামলায় জনবসতিপূর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও রণকৌশল
এই সামরিক সংঘাতের পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় ইরানকে সতর্ক করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান দ্রুত কোনো চুক্তিতে না এলে আরও জোরালো এবং ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হবে। যদিও এই সংঘর্ষকে তিনি উপহাস করে ‘লাভ ট্যাপ’ বা ভালোবাসার ছোঁয়া বলে অভিহিত করেছেন, তবে তাঁর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে ওয়াশিংটন পিছু হটতে নারাজ। পালটা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরানও তাদের আকাশসীমায় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শান্তি প্রক্রিয়া ও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটল যখন তেহরান একটি শান্তি প্রস্তাব বিবেচনা করছিল। ওই প্রস্তাবে তিন ধাপে শত্রুতা কমানো এবং ৩০ দিনের আলোচনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পরমাণু ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌ-চলাচলের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলো আবারও আলোচনার টেবিল থেকে যুদ্ধের ময়দানে চলে এসেছে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেলের সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এই জলপথে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের লাফ দিতে পারে। দুই দেশই বড় কোনো যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ করলেও, বর্তমান সামরিক তৎপরতা ও কামানের লড়াই কূটনীতির ভবিষ্যৎকে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
