শান্তি ফেরাতে মরিয়া ট্রাম্প, এবার কি জামাই কুশনারের হাত ধরেই মিটবে ইরান-আমেরিকা সংঘাত? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ইতি টানতে নতুন কূটনৈতিক চাল চাললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম দফার শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর এবার নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বৃত্তের ওপর ভরসা রাখছেন তিনি। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার। সঙ্গে থাকবেন বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে সরিয়ে কুশনারকে সামনে আনা ট্রাম্পের এক সুদূরপ্রসারী কৌশল হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা ও নতুন কৌশল
গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে আয়োজিত প্রথম দফার শান্তি বৈঠক কোনো ইতিবাচক ফল ছাড়াই শেষ হয়। ইরানের অভিযোগ ছিল, আমেরিকা আলোচনার টেবিলে অবাস্তব শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে এবং বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছে। এই টানাপোড়েনের জেরে দ্বিতীয় দফার বৈঠক শুরুর আগেই তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে অনির্দিষ্টকালের জন্য সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসন এখন আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাইছে। কুশনারের পূর্ববর্তী কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তেহরানের সঙ্গে বরফ গলানোই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য।
আলোচনার টেবিলে অনিশ্চয়তা ও প্রভাব
আমেরিকা তাদের প্রতিনিধি দলে রদবদল আনলেও ইরান এখনো আলোচনার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সম্মতি দেয়নি। দেশটির বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি বৈঠকে বসতে পারেন বলে গুঞ্জন থাকলেও তেহরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। এই আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা। যদি কুশনারের মধ্যস্থতায় দুই দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবে দীর্ঘ দেড় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটবে। অন্যথায়, শর্তের বেড়াজালে আলোচনা আটকে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল।
এক ঝলকে
- ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আসছেন জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ।
- প্রথম দফার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে আলোচনার দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
- ওয়াশিংটনের অযৌক্তিক শর্তের কারণে ইরান এখনো দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
