‘শাসকের আইন ছিল, এখন আইনের শাসন’, পুলিশের সঙ্গে হাইভোল্টেজ বৈঠকের পর মন্তব্য শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবারে প্রথম জেলাস্তরের প্রশাসনিক বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে আর কোনো ‘শাসকের আইন’ চলবে না, বরং পুরোপুরি ‘আইনের শাসন’ কায়েম হবে। পূর্বতন সরকারের জমানাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক হিংসা বা অত্যাচারের শিকার হওয়া যেকোনো নাগরিক এখন থেকে থানায় গিয়ে নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং পুলিশকে সেই অভিযোগ গ্রহণ করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজ্যে আইনের শাসন ফেরাতে পুলিশ প্রশাসনকে কার্যত সম্পূর্ণ স্বাধীনতা বা ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ দায়েরের চার দাওয়াই ও সিন্ডিকেটরাজ খতমের হুঁশিয়ারি
বৈঠক শেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট চারটি ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের করার অধিকারের কথা ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক হিংসার শিকার, পুলিশের হাতে অত্যাচারিত ব্যক্তি, নির্যাতিতা মহিলা এবং সরকারি প্রকল্পে কাটমানি বা তোলাবাজির ভুক্তভোগীরা সরাসরি থানায় এফআইআর করতে পারবেন। তবে কাটমানির ক্ষেত্রে অনলাইন লেনদেনের তথ্য প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডায়মন্ডহারবার ও ফলতা অঞ্চলে বিগত দিনে হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাম না করে স্থানীয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগে একজন এমপির আপ্ত সহায়কের নির্দেশে ওসি-আইসিরা চলতেন, কিন্তু এখন সেই ব্যবস্থার অবসান ঘটেছে। আগামী এক মাস পুলিশের কাজের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ঘরছাড়াদের পুনর্বাসন ও বর্ষার আগাম প্রস্তুতি
ভোট পরবর্তী হিংসায় ঘরছাড়াদের প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, যাঁদের বিরুদ্ধে হিংসার কোনো রেকর্ড নেই, তাঁদের সসম্মানে বাড়ি ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেবে পুলিশ। তবে অপরাধমূলক কাজে যুক্ত থাকলে তাঁদের ঠাঁই হবে জেলে। এছাড়া বিজেপির সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি মেনে টোটো, অটো কিংবা সাফাইকর্মীদের কাছ থেকে অবৈধ তোলাবাজি বা সিন্ডিকেটরাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক এই বৈঠকের পরিধি শুধু আইন-শৃঙ্খলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; আসন্ন বর্ষা মরশুমের কথা মাথায় রেখে নদীবাঁধের ভাঙন রোধেও পুলিশকে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও বাঁধ ভাঙার খবর পেলেই দ্রুত বিডিও এবং সেচ দপ্তরকে তা জানিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরুর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এক ঝলকে
- ডায়মন্ডহারবারে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে রাজ্যে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- রাজনৈতিক হিংসা, নারী নির্যাতন, পুলিশি অত্যাচার এবং কাটমানির বিরুদ্ধে থানায় সরাসরি এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- সিন্ডিকেটরাজ ও তোলাবাজি রুখতে টোটো, অটো বা সাফাইকর্মীদের থেকে বৈধ রসিদ ছাড়া টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকা দখল ও ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িতদের জেলে পাঠানো এবং নিরপরাধ ঘরছাড়াদের সসম্মানে বাড়ি ফেরানোর ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
