শিকারিদের দিন শেষ, কাজিরাঙায় রাজত্ব গন্ডারের: সন্দীপ কুমারের মাস্টারস্ট্রোক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
একসময় আসামে নিয়মিত বিরতিতে খবরের শিরোনামে উঠত গন্ডার শিকারের ঘটনা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে টানা দু’বছর ২৭টি করে একশৃঙ্গ গন্ডার হারিয়েছে রাজ্যটি। আন্তর্জাতিক পাচারচক্র আর আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত শিকারিদের সামনে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের বনকর্মীরা যেন এক আসাম লড়াই লড়ছিলেন।
তবে সেই ছবিটা আজ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ২০২২ সালে প্রায় ৪৫ বছর পর প্রথমবার আসামে একটিও গন্ডার শিকার হয়নি—তৈরি হয় ঐতিহাসিক ‘জিরো রাইনো পোচিং’-এর নজির। পরবর্তীতে ২০২৫ সালেও এই অভূতপূর্ব সাফল্য ধরে রাখতে সক্ষম হয় রাজ্যটি।
নেপথ্যের নায়ক ও সাফল্যের মূল চাবিকাঠি
এই অভাবনীয় পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ১৯৮৯ ব্যাচের IFS অফিসার সন্দীপ কুমারের (বর্তমানে আসামের PCCF ও HoFF)। তাঁর নিখুঁত পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে শিকার থামানোর কৌশল বদলে যায়:
- বিশেষ টাস্ক ফোর্স (২০২১): পুলিশ, বনদপ্তর ও তদন্তকারী সংস্থাকে এক ছাতার তলায় এনে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
- প্রযুক্তির ব্যবহার: সাধারণ টহলের পাশাপাশি ড্রোন, সিসিটিভি, থার্মাল ইমেজিং এবং উন্নত ওয়্যারলেস ব্যবস্থার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়।
- জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ: স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিশেষ মহিলা বনরক্ষী দল ‘ভ্যান দুর্গা’ এই লড়াইয়ের মূল শক্তি হয়ে ওঠে। ফলে পাচারকারীরা জঙ্গলে ঢোকার আগেই ধরা পড়তে থাকে।
সংরক্ষণের ইতিবাচক ফল: কঠোর নজরদারির সুবাদে কাজিরাঙায় ২০০৯ সালে গন্ডারের সংখ্যা যেখানে ছিল ২,০৪৮, ২০২২ সালের গণনায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২,৬১৩-তে।
২০২৩ ও ২০২৪ সালে গন্ডার শিকারের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও ‘অপারেশন ফ্যালকন’-এর মতো কঠোর অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রশাসন, প্রযুক্তি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা যে সংরক্ষণের ইতিহাস বদলে দিতে পারে—আজ বিশ্বজুড়ে তার এক অনন্য উদাহরণ আসাম।
