শিক্ষকতায় বিরাট চমক: ডিগ্রি ছাড়াই সরকারি স্কুলে শেখাবেন অভিজ্ঞরা, কীভাবে আবেদন করবেন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলির পঠনপাঠনের মান আরও আধুনিক, বাস্তবমুখী ও সমৃদ্ধ করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর। এবার থেকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে কেবল স্থায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকাই নন, সমাজের নানা ক্ষেত্রের দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরাও শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের জনপ্রিয় ‘বিদ্যাঞ্জলি’ (Vidyanjali Scheme) প্রকল্পকে এবার রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা দপ্তরের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও নানাবিধ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলি:
এই প্রকল্পের অধীনে স্বেচ্ছাসেবী (Volunteer) হিসেবে স্কুলে পাঠদান করা যাবে।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতক (Graduation) পাশ করলেই আবেদন করা যাবে।
- বিশেষ ছাড়: এই কাজের জন্য বিএড (B.Ed) ডিগ্রি বা টেট (TET) পাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর বাস্তব দক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতাকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে।
- কারা অংশ নিতে পারবেন: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, প্রাক্তন সেনাকর্মী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার), গবেষক, আইটি পেশাদার, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারবেন।
অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করার নিয়ম:
প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ এবং সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে: ১. প্রথমে অফিসিয়াল বিদ্যাঞ্জলি পোর্টালে (Vidyanjali Portal) প্রবেশ করতে হবে। ২. পোর্টালে গিয়ে ‘Become a Volunteer’ অপশনে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন করতে হবে। ৩. আবেদনকারীকে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বর্তমান পেশা, মোবাইল নম্বর ও পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। ৪. নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর নিজের পছন্দমতো জেলা ও নির্দিষ্ট বিদ্যালয় নির্বাচন করা যাবে। ৫. সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত ব্যক্তিদের পাঠদানের অনুমতি প্রদান করবেন।
শিক্ষামহলের প্রতিক্রিয়া:
শিক্ষাবিদদের মতে, সমাজ থেকে উঠে আসা বিভিন্ন বিষয়ের অভিজ্ঞ ও সফল মানুষদের শ্রেণিকক্ষে নিয়ে আসার এই উদ্যোগ রাজ্য শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব আনবে। এর ফলে সরকারি বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন আরও গতিশীল, আধুনিক এবং প্র্যাকটিক্যাল হয়ে উঠবে।
