শিক্ষা দফতরে পটপরিবর্তনের প্রভাব, ইস্তফা দিলেন এসএসসি চেয়ারম্যান ও পর্ষদ সভাপতি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল শিক্ষা দফতরে। রাজ্যের নবগঠিত বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই প্রশাসনের অন্দরে শুরু হয়েছে খোলনলচে বদলে ফেলার প্রক্রিয়া। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে নতুন সরকারের কড়া অবস্থানের মাঝেই এই জোড়া ইস্তফা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সাফাই অভিযানে নতুন সরকার, সরছেন পুরনো আমলের আধিকারিকরা
তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষা দফতরে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘকাল ধরেই তোলপাড় ছিল রাজ্য রাজনীতি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই দুর্নীতি দমনে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় গতি ফেরাতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জানা গিয়েছে, স্কুল এবং কলেজের যে সমস্ত গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, সেগুলি অবিলম্বে রিভিউ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ সহ বিভিন্ন দফতরে কর্মরত যে সমস্ত আধিকারিকের বয়স অতিক্রান্ত হয়েছে, তাঁদেরও সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রশাসনিক চাপের মুখেই এসএসসির আঞ্চলিক কার্যালয়ের চেয়ারপার্সনরা একে একে পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন।
নিয়োগ জট কাটানো ও প্রশাসনিক সংস্কারের সম্ভাবনা
২০২২ সালে নিয়োগ দুর্নীতির চরম আবহে সিদ্ধার্থ মজুমদার এসএসসির চেয়ারম্যান পদে বসেছিলেন। তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি সরে দাঁড়ানোই শ্রেয় বলে মনে করেছেন। অন্যদিকে, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের উত্তরসূরি হিসেবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দায়িত্ব সামলানো রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ও মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পরেই নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই পদত্যাগগুলোর ফলে শিক্ষা দফতরের শীর্ষ স্তরে নতুন মুখ আসার পথ প্রশস্ত হলো। এর ফলে থমকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলিতে স্বচ্ছতা আনা এবং দ্রুত জট কাটানোই এখন নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে। আগামী কয়েক দিনে শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফতরে আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
