“শিষ্টাচার আর আপনি? এক ঘরে থাকা আসাম্ভব!” অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিকে নজিরবিহীন আক্রমণ হিমন্তের

কংগ্রেস নেতা পবন খেড়াকে সুপ্রিম কোর্ট আগাম জামিন দেওয়ার পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক তর্জা নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রবীণ আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংঘভির মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে হিমন্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর কাছ থেকে গণতন্ত্র বা শিষ্টাচার শেখার প্রয়োজন নেই। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে রাজনীতি করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার বিচার আদালতই করবে।
চরিত্র হননের অভিযোগ ও আইনি লড়াই
এই বিতর্কের মূলে রয়েছে পবন খেড়ার বিরুদ্ধে আনা মানহানির মামলা। খেড়া অভিযোগ করেছিলেন যে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রীর একাধিক দেশের পাসপোর্ট এবং বিদেশে অঘোষিত সম্পত্তি রয়েছে। এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও কুৎসিত চরিত্র হনন বলে আখ্যা দিয়েছেন হিমন্ত। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, রাজনীতিতে না থাকা একজন নারীর বিরুদ্ধে জাতীয় টেলিভিশনে জাল নথির সাহায্যে কুৎসা রটানো হয়েছে। আদালত সাময়িক স্বস্তি দিলেও বিষয়টির শেষ দেখে ছাড়বেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
গণতন্ত্র বনাম রাজনৈতিক প্রতিশোধ
অন্যদিকে, কংগ্রেস এই রায়কে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জয় হিসেবে দেখছে। অভিষেক মনু সিংঘভি মনে করেন, আদালত এই মামলায় রাজনৈতিক প্রতিশোধের ছায়া দেখতে পেয়েছে। তবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পাল্টা অভিযোগে বলেছেন, সিংঘভি এমন মঞ্চে কথা বলছেন যেখানে তাঁর জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, যা মূলত আলোচনার পথ এড়িয়ে যাওয়া। তাঁর দাবি, এটি কেবল আইনি লড়াইয়ের সূচনা, সত্যের জয় ভবিষ্যতে অবশ্যই হবে।
এই সংঘাতের ফলে আসামের রাজনীতির উত্তাপ জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে ভুয়া নথি ব্যবহারের যে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী তুলেছেন, তা আগামীতে আরও বড় আইনি ও রাজনৈতিক মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- পবন খেড়াকে সুপ্রিম কোর্টের আগাম জামিন প্রদানের পর হিমন্ত ও সিংঘভির মধ্যে বাগযুদ্ধ তীব্র হয়েছে।
- মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা আর্থিক ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগকে ‘চরিত্র হনন’ বলে দাবি হিমন্তের।
- অভিষেক মনু সিংঘভি এই রায়কে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না।
