“শেয়ার বাজারে কারচুপির ছক!” এক্সিট পোলকে উড়িয়ে দিয়ে মোক্ষম তোপ মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক আগে বুথফেরত সমীক্ষাকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অধিকাংশ এক্সিট পোল রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় ও বিজেপির উত্থানের ইঙ্গিত দিলেও মুখ্যমন্ত্রী তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সোমবার ফল ঘোষণার আগে দলীয় কর্মীদের ভার্চুয়ালি সম্বোধন করে মমতা দাবি করেন, তাঁর দল ২০০-এর বেশি আসন পেয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরছে। তাঁর মতে, তৃণমূলের নিশ্চিত জয়কে আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে এই কাল্পনিক পরিসংখ্যান পরিবেশন করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই এক্সিট পোলগুলো কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর দাবি, একদল ব্যবসায়ী ও স্বার্থান্বেষী মহল বাজারের সেন্টিমেন্টকে কৃত্রিমভাবে বদলে দিতে এই ধরণের সমীক্ষা প্রচার করছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে শেয়ার বাজারে বড় ধরনের কারচুপির চেষ্টা চলছে বলে তিনি সরাসরি তোপ দাগেন। ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, অতীতেও এমন সমীক্ষা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
ফলাফল ও রাজনৈতিক উত্তাপ
আগামী ৪ মে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষায় ব্যাপক মতপার্থক্য দেখা গেছে। পি-মার্ক বা মেট্রাইজের মতো সংস্থাগুলো যেখানে বিজেপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিচ্ছে, সেখানে পিপলস প্লাস বা জনমতের মতো সমীক্ষা তৃণমূলের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বাগযুদ্ধের প্রভাব কাল শেয়ার বাজারের সূচকে এবং পরদিন ভোটের বাক্সে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি তৃণমূল কংগ্রেস ২০০-এর বেশি আসন নিয়ে সরকার গড়বে।
- এক্সিট পোলকে শেয়ার বাজারে কারচুপি করার একটি সুপরিকল্পিত ছক হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
- বিজেপিকে ক্ষমতায় দেখানোর প্রবণতাকে তিনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার কৌশল বলেছেন।
- আগামী ৪ মে সোমবার জানা যাবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল।
