শেষযাত্রায় অপরাজিত অনীক, নন্দন চত্বরে বিদায় বেলায় উঠল রাজনৈতিক ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে ক্ষোভ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জীবদ্দশায় যে সরকারি প্রেক্ষাগৃহ নন্দনে তাঁর চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুমতি মেলেনি, জীবনের অন্তিম লগ্নে সেই নন্দন প্রাঙ্গণেই শেষ শ্রদ্ধার জন্য এসে পৌঁছাল প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের নিথর দেহ। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ও ‘অপরাজিত’ ছবির এই কালজয়ী স্রষ্টাকে শেষ বিদায় জানাতে নন্দন চত্বরে আজ উপস্থিত হয়েছিলেন টলিউডের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। ফুলের মালায় সুসজ্জিত শববাহী গাড়িতে শায়িত পরিচালকের পাশে তাঁর শেষযাত্রার সঙ্গী ছিলেন মেয়ে রাই। অঞ্জন দত্ত, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, বিদিপ্তা চট্টোপাধ্যায়ের মতো টলিপাড়ার স্বজনদের পাশাপাশি সেখানে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ ও পাপিয়া অধিকারী।
শিল্পের রাজনীতি ও ব্যান কালচারের অবসান
পরিচালকের অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে লকেট চট্টোপাধ্যায় জানান, সিনেমার মাধ্যমে মানুষের মনের কথা তুলে ধরতেন অনীক দত্ত এবং তাঁর এই চলে যাওয়া টলিউডে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল। পূর্বতন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, গণতান্ত্রিক দেশে নিজস্ব মতামত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে এবং বিগত ১৫ বছর ধরে নন্দনে অনীক দত্তর ছবি প্রদর্শনে যে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল, আগামীতে আর কোনো শিল্পীর সাথে এমন ‘ব্যান কালচার’ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হবে না। শিল্পীর কাজই তাঁর একমাত্র সম্মান হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মানসিক নির্যাতন ও রাজনৈতিক ক্ষোভ
অনীক দত্তের এই আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের রাজনৈতিক রোষ ও প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতনকে দায়ী করেছেন অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার দিক তুলে ধরায় এবং সত্য প্রকাশের কারণে সরকারি রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল পরিচালককে। নন্দনে ছবি ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করতে না দেওয়াকে এক ধরনের ‘মানসিক খুন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে টলিগঞ্জ এখন রাহুমুক্ত এবং সমস্ত প্রেক্ষাগৃহে সব ধরনের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
যোগ্যতার মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
নন্দন চত্বর থেকে অভিনেতা তথা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ স্পষ্ট বার্তা দেন যে, বর্তমান সরকারের জমানায় টলিউডে কোনো স্বৈরাচার চলবে না, বরং যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকে কাজ পাবেন। একই সাথে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, পূর্বতন সরকার অনীক দত্তের যে সকল ছবি নন্দনে প্রদর্শনে বাধা দিয়েছিল, বর্তমান সরকার খুব শীঘ্রই সেই নিষিদ্ধ ও বাধাপ্রাপ্ত ছবিগুলো নন্দনে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবে। নন্দন চত্বরে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে পরিচালকের দেহ তাঁর কর্মক্ষেত্র এনটিওয়ান স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে তাঁর শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে শ্মশানের অভিমুখে রওনা দেওয়া হয়।
