শোভনদেবকে সচিবালয়ের চিঠি, কাটবে কি বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা? – এবেলা

শোভনদেবকে সচিবালয়ের চিঠি, কাটবে কি বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর ২০ দিনেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা এখনও অব্যাহত। শাসক থেকে প্রধান বিরোধী দল হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হলেও, এখনও তিনি সেই স্বীকৃতি পাননি বলে অভিযোগ। এই আবহে সোমবার বিধানসভার সচিবালয়ের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে আজ, মঙ্গলবার স্পিকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

চিঠির নেপথ্যে থাকা আসল বিতর্ক ও নিয়ম

বিধানসভার সচিবালয় সূত্রের খবর, তৃণমূল পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, তাতে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, পরিষদীয় দল সংক্রান্ত যেকোনো দাবি বা চিঠিতে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দলের বিধায়কদেরই স্বাক্ষর বা এক্তিয়ার থাকে। সচিবালয়ের দাবি, ৮০ জন বিধায়কের সমর্থন সংবলিত স্বাক্ষর না থাকায় ওই চিঠিকে মান্যতা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই জটিলতার জেরে ক্ষুব্ধ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় কয়েকদিন আগে তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) আবেদনও করেছিলেন।

নজিরবিহীন পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সচিবালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, অধ্যক্ষ নির্বাচনের দিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবেই সৌজন্য প্রদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, ফলে এখন এই অবস্থান বদল নজিরবিহীন। খোদ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা টেনে এই পরিস্থিতিকে অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জটিলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিধানসভার কার্য পরিচালনায় অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। বিরোধী দলনেতার ঘর ও পদের স্বীকৃতি না মিললে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আজকের স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপরেই নির্ভর করছে এই আইনি জট কাটবে নাকি বিতর্ক আরও বাড়বে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *