শ্রাবণী সোমবারে তারাপীঠে মহাবিপত্তি! হোটেলে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারালেন ৫ পুণ্যার্থী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শ্রাবণের শেষ সোমবার উপলক্ষে বীরভূমের বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল। কিন্তু উৎসবের আনন্দ নিমিষেই পরিণত হলো করুণ ট্র্যাজেডিতে। সোমবার ভোর আনুমানিক সাড়ে চারটে নাগাদ তারাপীঠ থানার কাছে অবস্থিত ‘বিদেশিনী’ নামের একটি জনপ্রিয় হোটেলে হঠাৎই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনের গ্রাসে ও ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫ জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত বহু মানুষকে দ্রুত উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যেভাবে ছড়ালো আগুন:
হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ একতলার রিসেপশনে থাকা এসি-র MCB (Miniature Circuit Breaker)-তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। হোটেলের নাইটগার্ড প্রথম বিষয়টি দেখতে পান এবং সহকর্মীদের খবর দেন। দ্রুত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (Fire Extinguisher) দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানো হয় এবং ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাজানো হয় ফায়ার অ্যালার্মও। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ঘন বিষাক্ত ধোঁয়া গোটা হোটেলে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া পুণ্যার্থীরা:
ভোররাতে সাইরেন ও আগুনের শিখা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ঘরে থাকা পর্যটকরা। অনেকেই রুমের বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু সিঁড়ি ও পেছনের ইমার্জেন্সি এক্সিট (Emergency Exit) সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেকে বিপদে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে বাথরুমের মধ্যে আশ্রয় নেন, আবার কেউ কেউ ঘরের ব্যালকনি ও পাশেই থাকা গাছের ডাল বেয়ে নিচে নেমে আসেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
হোটেল মালিকের ছেলে কল্যাণ পাল জানান, “আগুন লাগার পরপরই ফায়ার অ্যালার্ম বাজিয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয় এবং পাশের হোটেল থেকেও ফায়ার এক্সটিংগুইশার এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। পিছনের দিকে জরুরি নির্গমন পথ থাকলেও আতঙ্কের কারণে অনেকে সামনের দরজা দিয়েই বের হতে গিয়ে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।” তবে বর্তমানে হোটেলের ভেতরে আর কেউ আটকে নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তে পুলিশ ও দমকল:
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। বীরভূমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নীলেশ শ্রীকান্ত গায়কোয়াড় জানিয়েছেন, আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে এবং শর্ট সার্কিট নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
