সংসদেও এবার ভাঙনের খেলা! তৃণমূলের ২৩ সাংসদ নিয়ে তুঙ্গে ‘ঋতব্রত মডেলের’ জল্পনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য রাজনীতিতে এবার নজিরবিহীন আলোড়ন। বিধানসভার পর কি দেশের সংসদেও বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়তে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস? চারবারের বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের একটি তাৎপর্যপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যময় ইঙ্গিতে এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের ২৩ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের নাম, যা লোকসভাতেও ‘ঋতব্রত মডেল’ কার্যকর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অসন্তোষের সূত্রপাত ও দলীয় কোন্দল
তৃণমূলের অন্দরে এই ফাটলের কেন্দ্রে রয়েছেন বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সম্প্রতি দলের লোকসভার চিফ হুইপের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব দেন দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই কল্যাণ ও কাকলির মধ্যকার কাদা ছোড়াছুড়ি চরমে পৌঁছায়। এরপরই তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দেন কাকলি। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি এবং বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে হৃদ্যতাপূর্ণ বার্তালাপ সেই জল্পনায় ঘৃতাহুতি দেয়।
কাকলি ঘোষ দস্তিদার তাঁর পোস্টে লেখেন, চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন চারবারের সাংসদ নিজের স্বার্থের কথা ভাবেন না, বরং এটি আসলে নীতির বিরুদ্ধে এবং শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়। এই মন্তব্যকে তাঁর দল ছাড়ার বা বড় কোনো পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
কী এই ঋতব্রত মডেল ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিধানসভায় তৃণমূলের একদল বিধায়ককে একজোট করে যেভাবে দলটিকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছিল, রাজনৈতিক পরিভাষায় সেটিই ‘ঋতব্রত মডেল’ নামে পরিচিত। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদ রয়েছেন, যার সংসদীয় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় আইন অনুযায়ী, মূল দলের নাম ও প্রতীকের ওপর আইনি অধিকার বজায় রাখতে হলে শুধু বিধায়ক নয়, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থনও প্রয়োজন। আর সেই কারণেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাদের পরবর্তী লক্ষ্য এখন দিল্লির সংসদ।
সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করলেও বলেন, “ধৈর্য ধরুন, কাল কী হবে কেউ বলতে পারে না। অনেক কিছু হতে পারে।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ২৩ জন সাংসদ যদি সত্যি দলবদল বা নতুন কোনো গোষ্ঠী তৈরি করেন, তবে জাতীয় স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়বে এবং লোকসভায় তাদের শক্তি এক ধাক্কায় তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।
