সই বিতর্কে এবার মুখ খুললেন শোভনদেব, তুঙ্গে তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তি ও সিআইডি তৎপরতা – এবেলা

সই বিতর্কে এবার মুখ খুললেন শোভনদেব, তুঙ্গে তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তি ও সিআইডি তৎপরতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এক নজিরবিহীন অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া সমর্থনপত্রে বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে ওঠা অসঙ্গতির অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই জল্পনার মাঝেই এবার মুখ খুলেছেন খোদ প্রবীণ তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমিধ্যেই তদন্তে নেমেছে সিআইডি।

তদন্তে সিআইডি এবং বিধায়কদের বয়ান

বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে জমা দেওয়া নথিতে কয়েকটি স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ ওঠার পর সিআইডি তদন্তকারীরা তৎপরতা বাড়িয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি গিয়ে তাঁদের স্বাক্ষরের নমুনা সংগ্রহ ও যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতে হানা দেন সিআইডি আধিকারিকরা। পরে বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতেও যায় তদন্তকারী দল।

তদন্তে উঠে এসেছে মিশ্র তথ্য। বিধায়ক তাপস মাইতি সংশ্লিষ্ট স্বাক্ষরটি নিজের বলে স্বীকার করলেও, চন্দ্রনাথ সিনহার ক্ষেত্রে দেখা গেছে তিনি শপথের সময় বাংলায় সই করলেও সমর্থনপত্রে তাঁর নামে ইংরেজিতে সই রয়েছে। অন্যদিকে, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, গত ৬ মে তিনি কোনো বৈঠকেই যোগ দেননি এবং নথিতে থাকা স্বাক্ষরটি তাঁর নয়। ভোট-পরবর্তী হিংসার কারণে তিনি সে সময় নিজের বাড়িতেই ছিলেন বলে দাবি করেছেন।

বিতর্ক ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, কাউকে জোর করে সই করানো হয়নি এবং তিনি কোনো বেআইনি কাজের পক্ষে নন। তবে একই সাথে তিনি মন্তব্য করেছেন, “কে লিখেছে জানি না। তবে বাহারুল ওই সইটি দেখে বলেছেন ওটা ওঁর সই নয়।”

বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে এই ধরণের স্বাক্ষর বিতর্ক শাসক দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও শৃঙ্খলার অভাবকে প্রকাশ্যে এনেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা দলের ভিতরে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও ফাটলের জল্পনাকে আরও উসকে দিল। সিআইডির এই তদন্ত যত এগোবে, স্বাক্ষর জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ এবং এর প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের জন্য আরও বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *