সন্তানকে কেড়ে নেওয়ার আকুলতা না কি চরম নৃশংসতা! পুত্রবধূর হাতে প্রাণ হারালেন শ্বশুর – এবেলা

সন্তানকে কেড়ে নেওয়ার আকুলতা না কি চরম নৃশংসতা! পুত্রবধূর হাতে প্রাণ হারালেন শ্বশুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিহারের একটি মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা পারিবারিক সম্পর্কের অবক্ষয়কে আবারও সামনে এনেছে। নিজের দুই সন্তানকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জেদ এবং তা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শ্বশুরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছেন এক পুত্রবধূ। ঘটনার বীভৎসতা এতটাই যে, অভিযুক্ত মহিলা তাঁর প্রতিবন্ধী শ্বশুরের গোপনাঙ্গে ইট দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।

সন্তান নিয়ে বিবাদ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত মহিলা প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর দুই সন্তান তাঁদের প্রতিবন্ধী দাদুর কাছেই থাকত। বুধবার হঠাৎ ওই মহিলা শ্বশুরবাড়িতে এসে সন্তানদের নিজের সাথে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু শ্বশুর এতে বাধা দেন, কারণ তাঁর ধারণা ছিল সন্তানদের ভবিষ্যৎ তাঁর কাছেই বেশি নিরাপদ। এই নিয়ে শুরু হওয়া তীব্র বাদানুবাদ একপর্যায়ে চরম হিংসার রূপ নেয়। রাগের মাথায় ওই মহিলা পাশে পড়ে থাকা ইট তুলে নিয়ে অসহায় বৃদ্ধের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

আইনি ব্যবস্থা ও সামাজিক অস্থিরতা

ঘটনার পর অভিযুক্ত পুত্রবধূ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেছে। জেরায় তিনি নিজের অপরাধ কবুল করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, সন্তানদের ফিরে না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। এই ঘটনা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পারিবারিক কলহ নিরসনে আলোচনার অভাব এবং ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা মানুষকে পৈশাচিক অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পুলিশ বর্তমানে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • বিহারে পারিবারিক বিবাদের জেরে পুত্রবধূর হাতে প্রতিবন্ধী শ্বশুরের মর্মান্তিক মৃত্যু।
  • দীর্ঘ তিন বছর আলাদা থাকার পর সন্তানদের নিজের কাছে নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত।
  • বৃদ্ধ শ্বশুরের গোপনাঙ্গে ইট দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করে খুন করার অভিযোগ।
  • অভিযুক্ত পুত্রবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, অপরাধ কবুল করেছেন অভিযুক্ত মহিলা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *