সন্তানকে মারধরের নালিশ জানানোই ‘অপরাধ’, হিন্দমোটরে পিটিয়ে অভিভাবকের নাক ফাটাল পুলকার চালক! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
September 22, 20261:18 pm
স্কুলে যাতায়াতের সময় সন্তানকে অন্য ছাত্ররা মারধর করছিল—শুধু এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পুলকার চালকের কাছে জবাবদিহি চেয়েছিলেন এক অভিভাবক। আর তাতেই ঘটল মারাত্মক পরিণতি! অভিভাবকের ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর এবং নাক ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুলকার চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির হিন্দমোটরের নন্দনকানন এলাকায়। জখম অভিভাবকের নাম বিপ্লব কুমার বিশ্বাস। অতর্কিত হামলায় মাথা ফেটেছে তাঁর বন্ধু হেমন্ত দাসেরও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দনকাননের বাসিন্দা বিপ্লববাবুর আট বছরের ছেলে স্থানীয় এক ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্র। সে নিয়মিত পুলকারেই স্কুলে যাতায়াত করে। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে গাড়িতে যাতায়াতের সময় কয়েকজন ছাত্র তাকে মারধর করছিল বলে অভিযোগ। সোমবার সকালে বিষয়টি নিয়ে পুলকারের চালকের কাছে নালিশ জানান বিপ্লববাবু। তবে চালক দায় নিতে অস্বীকার করায় দুজনের মধ্যে বচসা বেঁধে যায়। সে সময় স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ঝামেলা তখনকার মতো মিটে গিয়েছিল।
অভিযোগ, আসল তাণ্ডব শুরু হয় সোমবার সন্ধ্যায়। নন্দনকানন এলাকার একটি ক্লাবের সামনে বিপ্লববাবু ও তাঁর বন্ধুরা বসে থাকার সময় পুলকারের মালিক সনু এবং চালকসহ প্রায় ১০-১৫ জন দুষ্কৃতী অতর্কিতে তাঁদের ওপর চড়াও হয়। বেধড়ক মারধরে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন বিপ্লববাবু, তাঁর নাক ফেটে যায়। বন্ধু হেমন্ত দাসসহ আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা হামলা ঠেকাতে গিয়ে জখম হন।
আহতদের উদ্ধার করে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বিপ্লব কুমার বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, “বাচ্চার সুরক্ষার কথা বলাটাই কি আমাদের অপরাধ? তাছাড়া যে পুলকারগুলো চলছে, সেগুলির অধিকাংশেরই রেজিস্ট্রেশন, ইনসিওরেন্স বা পলিউশন সার্টিফিকেট নেই। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গাড়িগুলো চালানো হচ্ছে।”
ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। উত্তরপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। ইতিমধ্যেই মূল এক অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। বাকি হামলাকারীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ।
