সন্তানের চিঠিতে আড়ি পেতে শ্রীঘরে পিতা! গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে কঠোর সাজা আদালতের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিজের ১০ বছরের সন্তানের ব্যক্তিগত চিঠি অনুমতি ছাড়া পড়া যে অপরাধ হতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি স্পেনের সেভিলের এক ব্যক্তি। ছেলের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (প্রাইভেসি) লঙ্ঘনের দায়ে আদালত ওই পিতাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে প্রায় ২.৩৩ লক্ষ টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় সমতুল্য) জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। সন্তানের ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ করার এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে থাকা পারিবারিক তিক্ততা জানা গিয়েছে, শিশুটির মাসি তাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে তার মায়ের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ছিল এবং কীভাবে সেই অত্যাচারের প্রমাণ দেওয়া যায়, তার উপায়ও বাতলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিঠিটি ছেলের হাতে পৌঁছানোর আগেই পিতা সেটি খুলে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হতেই শিশুটির মাসি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতে অভিযোগ করা হয় যে, অভিভাবক হওয়া সত্ত্বেও সন্তানের অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত চিঠি খোলার কোনো আইনি অধিকার ওই পিতার নেই।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও প্রভাব অভিযুক্ত পিতা আদালতে দাবি করেন যে, চিঠিটি ভুলবশত খোলা হয়েছিল এবং অভিভাবক হিসেবে সন্তানের গতিবিধি জানার অধিকার তার রয়েছে। তবে বিচারক সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানান, অভিভাবকত্ব মানেই সন্তানের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা নয়। আদালত স্পষ্ট করেছে, ১০ বছরের একটি শিশুরও নিজস্ব গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। এই রায় আগামী দিনে পারিবারিক আইন ও শিশু অধিকার রক্ষায় একটি বড় নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১২ সালে ওই ব্যক্তির স্ত্রীও তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের অভিযোগ তুলেছিলেন, যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সাহায্য করেছে।
এক ঝলকে
- সন্তানের ব্যক্তিগত চিঠি অনুমতি ছাড়া পড়ার অপরাধে এক ব্যক্তিকে ২ বছরের কারাদণ্ড।
- ঘটনাটি ঘটেছে স্পেনের সেভিল শহরে এবং পিতার ওপর ২.৩৩ লক্ষ টাকা জরিমানাও ধার্য হয়েছে।
- চিঠিতে মায়ের ওপর পিতার অত্যাচারের বিষয়ে মাসির দেওয়া কিছু গোপন তথ্য ছিল।
- আদালত জানিয়েছে, অভিভাবক হলেও শিশুর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
