সন্তান আসার পর দাম্পত্যে দূরত্ব? মাত্র কয়েকটি ছোট্ট অভ্যাসে ফেরান পুরোনো রসায়ন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ঘরে নতুন সন্তানের আগমন যেকোনো পরিবারের জন্যই পরম আনন্দের। তবে এই আনন্দের পাশাপাশি মা-বাবার ওপর চলে আসে এক পাহাড়প্রমাণ দায়িত্ব। রাত জেগে শিশুর যত্ন নেওয়া আর ২৪ ঘণ্টার ব্যস্ততায় অধিকাংশ দম্পতিই ‘স্বামী-স্ত্রী’ পরিচয় ভুলে কেবল ‘বাবা-মা’ হয়ে ওঠেন।
মনোবিদদের মতে, সন্তান হওয়ার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে দম্পতিদের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এই দূরত্ব যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তবে তা দাম্পত্যে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। সময় থাকতেই সচেতন হলে এবং দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি ছোট অভ্যাস গড়ে তুললে সম্পর্ককে আবার আগের মতো সুন্দর ও মজবুত করা সম্ভব।
দাম্পত্য সুদৃঢ় রাখার সহজ ৭টি উপায়:
- একসঙ্গে খাবার খাওয়া: ব্যস্ততার মাঝেও দিনে অন্তত একটি বেলা মোবাইল বা টিভি থেকে দূরে থেকে দুজন একসঙ্গে বসে খাবার খান এবং গল্প করুন।
- অহংকার ভুলে ক্ষমা চাওয়া: সম্পর্কে মান-অভিমান স্বাভাবিক। কার অহংকার বেশি—তা না দেখে ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে ‘সরি’ বলে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলুন।
- রাতের কিছুটা সময় নিজেদের জন্য রাখা: রাত ৯টা বা ১০টার পর সব গ্যাজেট দূরে সরিয়ে রেখে অন্তত কিছুক্ষণ স্বামী-স্ত্রী নিজেদের অনুভূতি ও মনের কথা ভাগ করে নিন।
- সঙ্গীর মানসিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া: শুধু সংসারের খরচ বা সন্তানের কাজ নিয়ে কথা না বলে, সঙ্গীর দিনটি কেমন কাটল বা তার শরীর-মন কেমন আছে—সে বিষয়ে আন্তরিকভাবে জানতে চান।
- মাসে একদিন নিজেদের ‘ডে-আউট’: দাম্পত্যে নতুনত্ব আনতে মাসে অন্তত একটি দিন দুজনে মিলে বাইরে কফি খাওয়া, হাঁটা বা নিরিবিলিতে কিছুটা সময় কাটান।
- সন্তানের সামনে তর্ক না করা: মতের অমিল হতেই পারে, তবে সন্তানের সামনে ঝগড়া করবেন না। মা-বাবার অশান্তি শিশুর কোমল মনে মারাত্মক মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
- সাহায্য চাইতে সংকোচ না করা: ক্লান্তি থেকেই অনেক সময় মেজাজ খিটখিটে হয়। তাই সংসারের সব চাপ একা না নিয়ে সঙ্গী বা পরিবারের অন্যদের সাহায্য নিন। একে অপরের কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা খোলাখুলি বলুন।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: সন্তান নিশ্চিতভাবেই পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় সদস্য, কিন্তু নিজেদের ভালোবাসার যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনই শিশুর সঠিক মানসিক বিকাশের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।
