সন্দেশখালির নোনা জলে ফুটল পদ্ম, তছনছ হয়ে গেল তৃণমূলের দেড় দশকের নোনাধরা সাম্রাজ্য! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সন্দেশখালির লোনা বাতাস আর রাজনীতির উত্তপ্ত স্রোতে শেষমেশ বড়সড় পটপরিবর্তন ঘটল। দীর্ঘ দেড় দশকের আধিপত্য হারিয়ে তৃণমূলের দুর্গ এখন ধূলিসাৎ। সুন্দরবনের এই প্রত্যন্ত জনপদে প্রথমবারের মতো জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়ল বিজেপি। তৃণমূল প্রার্থী ঝর্না সর্দারকে ১৭,৫১০ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সনৎ সরদার। এই জয় কেবল একটি আসনের নয়, বরং সন্দেশখালি থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদের ঢেউ যে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে, তা স্পষ্ট।
জনরোষ ও শাহজাহান সাম্রাজ্যের পতন
সন্দেশখালির এই ফলাফলের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। একসময়ের বাম দুর্গ ২০১১ সালের পরিবর্তনের ঝড়েও অটুট ছিল, কিন্তু ২০১৬ থেকে তা তৃণমূলের দখলে যায়। তবে গত কয়েক বছরে স্থানীয় নেতা শেখ শাহজাহান ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে জমি দখল, ভেরিতে নোনাজল ঢোকানো এবং নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সাধারণ মানুষের রুজি-রুটিতে টান পড়ায় শুরু হয় গণবিক্ষোভ, যা জাতীয় রাজনীতিতেও আলোড়ন তোলে। শাহজাহানকে দল থেকে বহিষ্কার বা প্রার্থী বদল করেও শেষরক্ষা করতে পারেনি শাসকদল। লোকসভা নির্বাচনের ট্রেন্ড বজায় রেখে বিধানসভাতেও মানুষ পদ্ম শিবিরকেই বেছে নিয়েছেন।
পরিবর্তনের ঢেউ ও ফলাফল বিশ্লেষণ
ভোট গণনার প্রাথমিক পর্যায়ে তৃণমূল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও অষ্টম রাউন্ডের পর থেকেই সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি প্রার্থী সনৎ সরদার পেয়েছেন ১,০৭,১৮৯টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঝর্না সর্দার পেয়েছেন ৮৯,৬৭৯ ভোট। অন্যদিকে, বাম প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ মাহাতো মাত্র ১২,৯২১ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
সন্দেশখালির এই পরিবর্তনের হাওয়া শুধু নিজ কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, পাশের কেন্দ্র হিঙ্গলগঞ্জেও তার প্রভাব পড়েছে। সন্দেশখালি আন্দোলনের অন্যতম মুখ রেখা পাত্র সেখানে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সন্দেশখালি থেকে শুরু হওয়া এই নোনাজলের বিদ্রোহই বাংলায় তৃণমূলের বড়সড় বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা কমিশন প্রদত্ত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী বিজেপিকে রাজ্যের মসনদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
