“সব বন্ধ করতে চাইলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন!” নির্বাচন কমিশনকে নজিরবিহীন ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নির্বাচন কমিশনের মোটরবাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞাকে ‘তুঘলকি ফরমান’ বলে তীব্র ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মোটরসাইকেল ব্যবহারে ৪৮ ঘণ্টার কড়া বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। নাগরিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে আদালত স্পষ্ট জানায়, স্রেফ ক্ষমতা থাকলেই যেকোনো নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও কঠোর হুঁশিয়ারি
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জানান, যদি সবকিছুই এভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তবে সরাসরি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা উচিত। কমিশনের কাছে আদালতের প্রশ্ন, অন্য রাজ্যগুলোতেও কি এমন অদ্ভুত নির্দেশ জারি করা হয়? পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী এবং সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও কেন এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। বিচারপতি মনে করেন, এই ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ চেষ্টার মাধ্যমে নাগরিক জীবন স্থবির করে দেওয়া হচ্ছে।
কমিশনের যুক্তি ও বিরূপ প্রভাব
নির্বাচন কমিশন তাদের নির্দেশনার সপক্ষে যুক্তি দিয়েছিল যে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বা হিংসা রুখতে এই মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তবে আদালত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের এই অবস্থানের ফলে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনের একচ্ছত্র সিদ্ধান্তের ওপর বড় ধরনের ধাক্কা এল, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনী বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে কমিশনকে আরও কৌশলী হতে বাধ্য করবে।
এক ঝলকে
- মোটরবাইক চলাচলে কমিশনের নিষেধাজ্ঞাকে ‘তুঘলকি ফরমান’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
- নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে কমিশনকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরামর্শ দিয়ে খোঁচা দিয়েছেন বিচারপতি।
- পুলিশ ও সিসিটিভি থাকা সত্ত্বেও কেন এমন কঠোর বিধিনিষেধ, তা নিয়ে কমিশনকে জবাবদিহি করতে হবে।
- এর আগে ৮০০ জনকে ‘উপদ্রবী’ হিসেবে চিহ্নিত করার কমিশনের সিদ্ধান্তও খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
