সমুদ্রযাত্রায় ফিরল ভাইরাসের আতঙ্ক, নতুন অতিমারী নিয়ে যা বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

সমুদ্রযাত্রায় ফিরল ভাইরাসের আতঙ্ক, নতুন অতিমারী নিয়ে যা বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আর্জেন্টিনা থেকে রওনা দেওয়া ডাচ ক্রুজ শিপ ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। জাহাজে থাকা যাত্রীদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সূত্রে খবর, আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও ৩ জন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। সংক্রমণের এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক মহলে আবারও একটি বড় মাপের অতিমারীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংক্রমণের উৎস ও ভয়াবহতা

হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরবাহিত একটি রোগ। সংক্রামিত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা মলের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সংস্পর্শে এলে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লুর মতোই— জ্বর, গায়ে ব্যথা এবং প্রবল দুর্বলতা। তবে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে শুরু করলে আক্রান্তের রক্তনালী থেকে তরল চুইয়ে ফুসফুসে জমা হয়, যা শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি করে। এমন সংকটজনক অবস্থায় রোগীকে প্রাণরক্ষাকারী ‘ইকমো’ (ECMO) সাপোর্টে রাখার প্রয়োজন পড়ে। গত ১১ এপ্রিল এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে, যা শুরুতে সাধারণ শ্বাসকষ্ট মনে করা হলেও পরে হান্টাভাইরাস হিসেবে শনাক্ত হয়।

কোভিড ও হান্টাভাইরাসের তুলনা

নতুন করে অতিমারীর সম্ভাবনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশ্বস্ত করেছে। ‘হু’-এর প্রধান জানিয়েছেন, হান্টাভাইরাস কোনো নতুন ভাইরাস নয় এবং এটি করোনার মতো অতিমারী সৃষ্টির ক্ষমতা রাখে না। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ছয় বছর আগের কোভিড-১৯ মহামারীর পরিস্থিতির কোনো মিল নেই বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা ও জার্মানি সহ ১২টি দেশকে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে বিশ্ব সংস্থা।

বর্তমান পরিস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

আক্রান্ত জাহাজের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নেদারল্যান্ডস এবং ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের বিশেষজ্ঞদের একটি দল মোতায়েন করা হয়েছে। জাহাজটি কানারি আইল্যান্ডে পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁরা যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। যদিও বর্তমানে জাহাজের অন্য কোনো যাত্রীর মধ্যে নতুন করে উপসর্গ দেখা যায়নি, তবুও চিকিৎসকরা এখনই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন না। হান্টাভাইরাসের ‘ইনকিউবিশন পিরিয়ড’ বা সুপ্তিকাল প্রায় ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে, তাই পরবর্তী দেড় মাস অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতের মাধ্যমে এই ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেই এখন কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *