সমুদ্রের অতল থেকেও কাঁপবে চীন ও পাকিস্তান, জার্মানির সাথে ভারতের ৬৭ হাজার কোটির মেগা সাবমেরিন চুক্তি চূড়ান্ত হচ্ছে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য রুখতে এবং প্রতিবেশী পাকিস্তানের নৌ-চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত। জার্মানির সঙ্গে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের (৮ বিলিয়ন ডলার) একটি বিশাল সাবমেরিন চুক্তি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সফরের পর জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই চুক্তিতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এর আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনী ৬টি অত্যন্ত আধুনিক ডিজেল-ইলেক্ট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন পেতে চলেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
প্রজেক্ট ৭৫(আই) ও মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগ
এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে জার্মানির বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান টিকেএমএস এবং ভারতের মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেডের যৌথ প্রচেষ্টায়। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাবমেরিনগুলো ভারতেই নির্মিত হবে এবং এর প্রায় ৬০ শতাংশ যন্ত্রাংশ দেশীয়ভাবে তৈরি করা হবে। ভারতের বর্তমান সাবমেরিন বহরের একটি বড় অংশই প্রায় দুই দশকের বেশি পুরনো। এই নতুন চুক্তি কেবল নৌবাহিনীর আধুনিকায়নই নিশ্চিত করবে না, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পে কয়েক হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করবে।
নিঃশব্দ ঘাতক প্রযুক্তিতে কপালে ভাঁজ শত্রুপক্ষের
এই সাবমেরিনগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অত্যাধুনিক ‘এআইপি’ বা এয়ার ইনডিপেনডেন্ট প্রোপালশন প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির ফলে সাবমেরিনগুলো দীর্ঘ সময় জলের নিচে ডুবে থাকতে পারবে, যা শত্রুপক্ষের রাডার বা সোনারের পক্ষে শনাক্ত করা প্রায় আসাম্ভব করে তুলবে। উন্নত সেন্সর, শক্তিশালী টর্পেডো এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত এই সাবমেরিনগুলো ভারত মহাসাগরে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্ভেদ্য করে তুলবে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে আন্তঃসরকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে এটি হবে ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসের অন্যতম বড় শক্তিশালী সংযোজন।
এক ঝলকে
- ভারত ও জার্মানির মধ্যে ৬৭,০০০ কোটি টাকার ৬টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন তৈরির চুক্তি চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে।
- ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আওতায় এই ঘাতক সাবমেরিনগুলো ভারতেই তৈরি করবে মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স।
- এআইপি প্রযুক্তির কারণে এই সাবমেরিনগুলো দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে থেকে শত্রুর চোখে ধুলো দিতে সক্ষম।
- ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হলে ভারত মহাসাগরে চীন ও পাকিস্তানের প্রভাব মোকাবিলায় ভারত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।
