সম্পর্কে ‘ইজি পার্টনার’ হওয়া মানেই কি সুখ, অশান্তি এড়াতে নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন না তো – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে অনেকেই প্রতিনিয়ত ঝগড়া বা অশান্তি এড়িয়ে চলেন। সঙ্গীর সব কথা মুখ বুজে মেনে নেওয়া, নিজের মতামত চেপে যাওয়া এবং সবসময় ‘হ্যাঁ’ বলার এই মানসিকতাকে মনোবিজ্ঞানীরা ‘ইজি পার্টনার’ সিন্ড্রোম বলে আখ্যায়িত করছেন। আপাতদৃষ্টিতে একে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ বা সম্পর্কের শান্তি বজায় রাখার কৌশল মনে হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি আসলে সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে। নিজের অস্বস্তি ও পছন্দ-অপছন্দ লুকিয়ে রেখে সাময়িক শান্তি মিললেও, এটি ধীরে ধীরে সম্পর্কের ভিত দুর্বল করে দেয়।
যেভাবে বাড়ে মানসিক জটিলতা
মনোবিদদের মতে, ‘ইজি পার্টনার’ সিন্ড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা মূলত বিচ্ছেদ বা পার্টনারকে হারানোর ভয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন না। এর ফলে সঙ্গীর মনে ধারণা তৈরি হয় যে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, কিন্তু অপর ব্যক্তির মনে ক্ষোভ ও হতাশা জমতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে চেপে রাখা এই মানসিক চাপ একসময় বড় কোনো বিস্ফোরণের রূপ নেয়, যা ছোটখাটো বিষয়কেও বড় ধরনের বিবাদে পরিণত করে। একতরফা সমঝোতার কারণে সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতা নষ্ট হয় এবং দুই সঙ্গীর মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়।
লক্ষণ ও উত্তরণের উপায়
সবসময় সঙ্গীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া, নিজের প্রয়োজনকে গুরুত্ব না দেওয়া, ঝগড়ার সময় পুরোপুরি চুপ থাকা এবং নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলা এই সমস্যার প্রধান লক্ষণ। সম্পর্ক পরামর্শদাতারা বলছেন, এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে সুস্থ ও খোলামেলা যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই। অশান্তির ভয়ে পিছিয়ে না গিয়ে নিজের অনুভূতি শান্তভাবে প্রকাশ করা এবং প্রয়োজনে ‘না’ বলার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। ঝগড়া মানেই সম্পর্কের শেষ নয়, বরং ভুল বোঝাবুঝি দূর করার একটি মাধ্যম। প্রতি সপ্তাহে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্কে সমান অংশীদারিত্ব ও ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
