‘সরকারের সমালোচনা অপরাধ নয়!’ রাহুল গান্ধীকে বড় স্বস্তি দিয়ে ঐতিহাসিক মন্তব্য এলাহাবাদ হাইকোর্টের

ভারতের লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার আবেদন খারিজ করে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের নীতি বা কার্যক্রমের সমালোচনা করা কোনোভাবেই অপরাধ নয়, বরং এটি গণতন্ত্রের এক অপরিহার্য অংশ। বিচারপতি বিক্রম ডি চৌহান বলেন, ভিন্নমত পোষণ করা এবং সরকারের বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াইয়ের আহ্বান জানানোকে বিদ্রোহ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বাকস্বাধীনতা
আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাহুল গান্ধী জনগণের উদ্বেগের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরতেই পারেন। আদালত আরও জোর দিয়ে বলে যে, যতক্ষণ না কোনো বক্তব্য সশস্ত্র বিদ্রোহ বা দেশের অখণ্ডতা নষ্ট করার সরাসরি প্রমাণ দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেটিকে অপরাধ বলা যাবে না। গণতন্ত্রের অগ্রগতি মূলত অবাধ ও ভিন্নধর্মী চিন্তার আদান-প্রদানের ওপরই নির্ভর করে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি ভিত্তি
গত বছরের ১৫ জানুয়ারি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, তাদের লড়াই এখন কেবল বিজেপি বা আরএসএসের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো ‘ইন্ডিয়ান স্টেট’-এর বিরুদ্ধে। এই মন্তব্যকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ দাবি করে মামলা দায়েরের আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে হাইকোর্ট জানায়, আবেদনকারী রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো শক্ত প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি। ফলে এটি সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী কোনো বিষয় নয় বলেই গণ্য হয়েছে।
এক ঝলকে
কোনো নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক বক্তব্যকে বিদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না।
ইলাহাবাদ হাইকোর্ট রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, সরকারের সমালোচনা করা বা ভিন্নমত পোষণ করা কোনো অপরাধ নয়।
জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলার এবং আদর্শিক লড়াই করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
