সরাসরি জমি কিনে শিল্পপতিদের দেবে রাজ্য, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর – এবেলা

সরাসরি জমি কিনে শিল্পপতিদের দেবে রাজ্য, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলার শিল্পায়নের পথ সুগম করতে জমি অধিগ্রহণ ও লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। শনিবার হুগলির ডানকুনিতে ‘লাক্স কোজি’ (Lux Cozi) গ্রুপের কারখানার দ্বিতীয় ইউনিটের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, এখন থেকে রাজ্য সরকার সরাসরি জমি কিনে শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেবে। এর মাধ্যমে রাজ্যে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে ‘জমি জট’ চিরতরে দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

শিল্পায়নে ‘সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম’ আতঙ্ক দূর করতে উদ্যোগ অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, “আমরা আর দ্বিতীয় কোনো সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম চাই না।” তিনি জানান, ২০১৩ সালের ল্যান্ড পার্চেস পলিসি মেনেই রাজ্য সরকার সরাসরি জমি কেনার নীতি গ্রহণ করেছে। রেল, জাতীয় সড়ক কিংবা বিমানবন্দরের জন্য যেভাবে সরকারি উদ্যোগে জমি কেনা হয়েছে, ঠিক একইভাবে বেসরকারি শিল্পপতিদের জন্যও জমি কিনে তা সরাসরি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। ল্যান্ড সেলিং পলিসিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

১০০ কোটির লগ্নিতে ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ ও দাদাগিরি বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় স্তরের দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করতে এদিন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, যে সমস্ত শিল্পপতি রাজ্যে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন, তাঁদের স্থানীয় পঞ্চায়েত, পুরসভা বা জেলা পরিষদের অনুমতির অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে না। তাঁদের জন্য থাকছে ‘সেন্ট্রাল সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম’। নবান্ন বা কলকাতা থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সমস্ত ছাড়পত্র মিলবে, যার ফলে স্থানীয় স্তরে ফাইল আটকে থাকা বা ‘দাদাগিরি’র দিন শেষ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডানকুনিতে ৬০০ কোটির মেগা প্রকল্প উল্লেখ্য, ডানকুনিতে লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ১২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে নতুন কারখানা গড়ে তুলতে চলেছে। এদিন ভূমি-পুজো ও প্রদীপ জ্বালিয়ে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, তাপস রায়, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং অর্জুন সিং-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোয় এই নতুন নীতি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *