সাড়ে তিনশ বছর ধরে কোনো বাড়িতে হয়নি বিয়ে! অদ্ভূত এই গ্রামে আজও টিকে আছে প্রাচীন প্রথা – এবেলা

সাড়ে তিনশ বছর ধরে কোনো বাড়িতে হয়নি বিয়ে! অদ্ভূত এই গ্রামে আজও টিকে আছে প্রাচীন প্রথা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজস্থানের বারমের জেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আটি গ্রাম। বিগত ৩৫০ বছর ধরে এই গ্রামের কোনো বাড়ির আঙিনায় বিয়ের সানাই বাজেনি। অদ্ভুত শোনালেও সত্য যে, গ্রামের প্রতিটি বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় স্থানীয় মন্দিরে। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই প্রথার কারণে গ্রামের বাড়ির আঙিনাগুলোকে আজও ‘কুমারী’ হিসেবে গণ্য করা হয়। মেঘওয়াল সম্প্রদায়ের জয়পাল গোত্রের মানুষজন এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে আজও অটুট রেখেছেন।

অভিশাপের ভয় ও ধর্মীয় বিশ্বাস

গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, বাড়ির আঙিনায় বিয়ের পিঁড়িতে বসলে নববধূর কোল কখনও পূর্ণ হয় না। মাতৃত্বের সুখ থেকে বঞ্চিত হওয়ার এই অলৌকিক ভয়েই মূলত মন্দিরে বিয়ের আয়োজন করা হয়। চণ্ডী মাতার মন্দিরে বিয়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা, ভোজন এবং বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এমনকি বিয়ের পর নববধূ যখন প্রথম গ্রামে আসেন, তখনও তাকে সরাসরি বাড়িতে না নিয়ে গিয়ে প্রথমে মন্দিরে রাখা হয়। সেখানে রাতভর জাগরণ ও পূজা শেষে পরের দিন সকালে ঘরে প্রবেশের অনুমতি পান তিনি।

ঐতিহ্যের ইতিহাস ও সামাজিক প্রভাব

ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় ৩৫০ বছর আগে জয়পাল গোত্রের মানুষজন জয়সালমিরের খুহড়ি গ্রাম থেকে এসে এখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তারা সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন কুলদেবী মা চামুণ্ডার প্রতিমা। সেই সময় থেকেই তারা মন্দিরকে নিজেদের পরম আশ্রয়স্থল মনে করেন এবং জীবনের সমস্ত শুভ কাজ দেবীর পাদদেশেই সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেন। বর্তমানে এই প্রথাটি কেবল অন্ধবিশ্বাস নয়, বরং গ্রামের একটি অবিচ্ছেদ্য সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এমনকি আধুনিক শিক্ষার ছোঁয়া লাগলেও বংশধররা এই নিয়ম ভাঙার সাহস দেখান না।

এক ঝলকে

  • রাজস্থানের বারমের জেলার আটি গ্রামে ৩৫০ বছর ধরে কোনো বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান হয় না।
  • গ্রামের সমস্ত ছেলে-মেয়ের বিয়ে এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় স্থানীয় চণ্ডী মাতার মন্দিরে।
  • বিশ্বাস করা হয় যে মন্দিরে বিয়ে না করলে কনের সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে।
  • বিয়ের পর নতুন বউকেও প্রথম রাত মন্দিরে কাটাতে হয় এবং পূজা শেষে পরদিন গৃহপ্রবেশ ঘটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *