সাত দিন রেইকির পর সুপারি কিলারের নিশানায় চন্দ্রনাথ, খুনের নেপথ্যে কি ভিনরাজ্যের যোগ?

সাত দিন রেইকির পর সুপারি কিলারের নিশানায় চন্দ্রনাথ, খুনের নেপথ্যে কি ভিনরাজ্যের যোগ?

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কোনো পেশাদার ‘সুপারি কিলার’ দল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, গত সাত দিন ধরে চন্দ্রনাথের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ বা ‘রেইকি’ করেছিল আততায়ীরা। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের গোহাড়িয়ায় বাড়ির কাছেই তাঁর গাড়ি আটকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রাক্তন এই সেনাকর্মীর, অন্যদিকে তাঁর চালক বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

তদন্তে ভিনরাজ্য ও পেশাদার চক্রের যোগসূত্র

তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই খুনের পরিকল্পনা অত্যন্ত সুচারুভাবে করা হয়েছিল। আততায়ীরা সম্ভবত ভিনরাজ্য থেকে এসেছিল এবং খুনের পর তারা দমদম বিমানবন্দর ব্যবহার করে পালানোর চেষ্টা করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ শুরু করেছে। অপরাধে ব্যবহৃত বাইক বা গাড়িটির নম্বরও ভুয়ো বলে জানা গিয়েছে; আসল নম্বরটি উত্তরবঙ্গের এক ব্যক্তির নামে নথিভুক্ত, যিনি সম্প্রতি গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে রাজ্য পুলিশ এসটিএফ, সিআইডি এবং আইবি-র সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই হত্যাকাণ্ডের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নিহত চন্দ্রনাথ রথ কোনো সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তবে বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠ ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তাঁর আপ্তসহায়ক হওয়ার কারণেই চন্দ্রনাথকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। অন্যদিকে, গোয়েন্দারা সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে আততায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। কোনো পুরনো শত্রুতা নাকি বড় কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এর নেপথ্যে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *