সামুদ্রিক ঝিনুকের খোলসে ট্রাম্পকে ‘হত্যার হুমকি’! এফবিআই-এর সাবেক প্রধানের আত্মসমর্পণ

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাণহানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগে কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি রহস্যময় ছবি পোস্ট করার জেরে তার বিরুদ্ধে এই ফৌজদারি মামলা করা হয়। বুধবার ভার্জিনিয়ার একটি আদালতে হাজির হলেও কোমি নিজের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন করেননি। তবে তার আইনজীবী এই বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বিতর্কিত পোস্ট ও অভিযোগের ভিত্তি
২০২৫ সালে সমুদ্রসৈকতে ঝিনুকের খোলস দিয়ে সাজানো “86 47” লেখা একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন জেমস কোমি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, ইংরেজি স্ল্যাং বা অপশব্দ হিসেবে “৮৬” অর্থ কোনো কিছু সরিয়ে ফেলা বা মাফিয়া ভাষায় কাউকে হত্যা করা। যেহেতু ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট, তাই এই সংখ্যাতত্ত্বের মাধ্যমে কোমি সহিংসতাকে উসকে দিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও কোমি দাবি করেছেন, এই সংখ্যার নেতিবাচক অর্থ সম্পর্কে তিনি জানতেন না এবং স্রেফ শৈল্পিক মনে করেই ছবিটি তুলেছিলেন।
আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, বিষয়টি দীর্ঘ এক বছর ধরে তদন্ত করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে কোমির প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প কোমিকে ‘অসৎ’ আখ্যা দিয়ে এই পোস্টটিকে নিজের জীবনের জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে কিছু আইন বিশেষজ্ঞ ও সিনেটর এই মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, নিছক একটি ছবির ভিত্তিতে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের মামলা মার্কিন বিচারব্যবস্থার জন্য একটি বিতর্কিত উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।
এক ঝলকে
- ঝিনুকের খোলসে লেখা “86 47” ছবির মাধ্যমে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির অভিযোগে জেমস কোমির আত্মসমর্পণ।
- রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, কোমি জেনেশুনে মাফিয়া স্ল্যাং ব্যবহার করে সহিংসতা উসকে দিয়েছেন।
- কোমি ও তার আইনজীবীরা এই মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন।
- অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাবেক এই এফবিআই পরিচালকের ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
