সায়নীর কণ্ঠে কাবা-মদিনা বনাম হিমন্তর অযোধ্যা হুঙ্কার! ভোটের মুখে উত্তপ্ত বাংলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে ধর্ম ও রাজনীতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের একটি নির্বাচনী প্রচার সভায় গাওয়া গানের লাইন ঘিরে শুরু হয়েছে এই বাগযুদ্ধ। সায়নী মঞ্চে “আমার হৃদয়ে কাবা, চোখে মদিনা” গানটি গাওয়ার পর সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর পরপরই বিজেপি একে সুনির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেগে দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে।
হিমন্তর পাল্টা তোপ ও মদিনা বিতর্ক
সায়নী ঘোষের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি সরাসরি আক্রমণ করে জানান যে, যাদের মদিনা নিয়ে এত আবেগ, তাদের ভারতে না থেকে ওখানেই চলে যাওয়া উচিত। হিমন্তের মতে, ভারতে থাকতে হলে অযোধ্যা নিয়ে কথা বলাই কাম্য। আজমির শরিফ নিয়ে আপত্তির জায়গা না থাকলেও সরাসরি মদিনার প্রসঙ্গ টানাকে তিনি ‘মানসিক সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিজেপির দাবি, এটি স্পষ্টতই তোষণ নীতি যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিঘ্নিত করতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
ধর্মের পাশাপাশি এবারের বিতর্কে যোগ হয়েছে খাদ্যাভ্যাসও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপি শাসনে আমিষ খাবার বন্ধ হওয়ার আশঙ্কার জবাবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। তিনি জানান, ৪ঠা মে ফলাফল প্রকাশের পর তারা মাছের ঝোল খাবেন। এমনকি তিনি রসিকতা করে বলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে খেতে বসলে তিনি ওঁর চেয়ে এক কেজি বেশিই খাবেন। আসামের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যে কোনো খাদ্যাভ্যাসে নিষেধাজ্ঞা নেই।
এই রাজনৈতিক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ভোটারদের মেরুকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তৃণমূল যেখানে বিষয়টিকে স্রেফ একটি জনপ্রিয় গানের পঙ্ক্তি হিসেবে দেখছে, বিজেপি সেখানে এটিকে জাতীয়তাবাদের প্রেক্ষাপটে নিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের ময়দানে এই ধর্ম ও খাবারের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কোন দলের ঝুলিতে জনসমর্থন টানে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- প্রচার সভায় সায়নী ঘোষের গাওয়া গানের লাইন নিয়ে রাজনৈতিক তোলপাড়।
- হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাফ কথা, ভারতে থাকতে হলে অযোধ্যা নিয়ে কথা বলতে হবে।
- মাছের ঝোল খাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ নস্যাৎ বিজেপির।
- ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা বনাম জাতীয়তাবাদের লড়াইয়ে উত্তপ্ত বাংলার নির্বাচনী পরিস্থিতি।
