সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার: কোন পর্যায়ে মুক্তি আসাম্ভব? লক্ষণ ও প্রতিকারের পূর্ণাঙ্গ গাইড – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের ৪ পর্যায়, কখন সতর্ক হওয়া জরুরি আর কেনই বা অবহেলায় বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি?
ভারতে নারীদের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বিশ্লেষণে সার্ভাইক্যাল বা জরায়ুমুখের ক্যান্সার শীর্ষে রয়েছে। অথচ সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং করলে এই রোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ানো এই মারণ ব্যাধি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও রয়ে গেছে গভীর অনীহা ও ছুঁৎমার্গ। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগ ধরা পড়ে যখন তা অ্যাডভান্সড স্টেজে পৌঁছে যায়।
ক্যান্সারের চারটি পর্যায় ও সংক্রমণের বিস্তার
সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের মোট চারটি পর্যায় রয়েছে। স্টেজ ০ বা প্রি-ক্যান্সার পর্যায়ে ভাইরাস শরীরে থাকলেও কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। স্টেজ ১-এ ক্যান্সার শুধুমাত্র জরায়ুর মুখে সীমাবদ্ধ থাকে, যা চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য। স্টেজ ২-এ ক্যান্সার জরায়ুমুখের বাইরে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, যার ফলে অস্বাভাবিক রক্তপাত বা তীব্র যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। স্টেজ ৩-এ রোগটি পেলভিক ওয়াল বা যোনির নিম্নাংশে ছড়িয়ে পড়ে, যা চিকিৎসার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করে। সবশেষে স্টেজ ৪-এ ক্যান্সার ফুসফুস, লিভার ও মূত্রথলির মতো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে পৌঁছে যায়, যেখানে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্যান্সার অ্যাডভান্সড স্টেজে শনাক্ত হয়, যা মৃত্যুর হার বৃদ্ধির মূল কারণ। অতিরিক্ত সাদা স্রাব, মেনোপজের পরে রক্তপাত কিংবা শারীরিক মিলনের সময় অস্বাভাবিক ব্যথাকে উপেক্ষা করা মোটেও উচিত নয়। প্যাপ স্মিয়ার বা এইচপিভি টেস্টের মতো সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতির মাধ্যমে খুব সহজেই প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে ১০০ শতাংশ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছালে কিডনি ফেলিওর কিংবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব হলেও রোগের পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসার ধরন পরিবর্তিত হয়। নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং সচেতনতাই পারে এই মারণব্যাধির কবল থেকে নারীদের সুরক্ষিত রাখতে।
