সিসিটিভিতে ধরা পড়ল খুনের ক্লু! দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা হত্যাকাণ্ডে বর্ধমানের দম্পতির জালে পড়ার নেপথ্যে কোন ২ ভুল? – এবেলা

সিসিটিভিতে ধরা পড়ল খুনের ক্লু! দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা হত্যাকাণ্ডে বর্ধমানের দম্পতির জালে পড়ার নেপথ্যে কোন ২ ভুল? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজি কলেজের বাঙালি শিক্ষিকা দেবস্মিতা পালের হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন করল পুলিশ। নিখুঁত পরিকল্পনা আর প্রযুক্তির চোখকে ফাঁকি দেওয়ার সব রকম চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হলো না। ১,৪০০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে এসেও শেষ পর্যন্ত মাত্র দু’টি ছোট ভুলের কারণে দিল্লি পুলিশের জালে ধরা পড়ল বর্ধমানের অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া দম্পতি রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গত ৩ জুন নিজেদের ১২ বছরের কম বয়সী নাবালক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি পৌঁছয় ওই দম্পতি। ডাল্লুপুরা এলাকার একটি গেস্ট হাউসে ভুয়ো আধার ও ভোটার কার্ড ব্যবহার করে পরিচয় লুকিয়ে ওঠে তারা। ডিজিটাল নজরদারি এড়াতে তারা সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন রাখেনি, যাতে টাওয়ার লোকেশন ট্রেস না করা যায়। এমনকি দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে ঢোকার সময়ে মুখে মাস্ক ব্যবহার করায় সিসিটিভিতেও প্রথম দিকে তাদের চেনা যায়নি। অপরাধ সংগঠিত করার পর পোশাক পরিবর্তন করে ট্যাক্সিযোগে আনন্দ বিহার থেকে নিউ দিল্লি স্টেশনে পৌঁছয় এবং পূর্বা এক্সপ্রেসে চেপে ৪ ঠা জুন বর্ধমানের বাড়িতে ফিরে আসে।

তদন্তে মোড় ঘোরাল যে দুটি ভুল

এত নিখুঁত ছক কষার পরেও দম্পতির করা দুটি মারাত্মক ভুলেই তদন্তের কিনারা হয়। প্রথমত, যে গেস্ট হাউসে তারা উঠেছিল, সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরায় মাস্কহীন অবস্থায় তাদের স্পষ্ট ছবি ধরা পড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, ফ্ল্যাট থেকে পোশাক বদলে বেরোনোর পর রাস্তার অন্যান্য সিসিটিভি ফুটেজে তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি রেকর্ড হয়। গেস্ট হাউসের সেই ছবি মৃত অধ্যাপিকার পরিবারকে দেখানো হলে জানা যায়, অভিযুক্তরা বর্ধমানে দেবস্মিতার দাদুর বাড়ির ভাড়াটিয়া। এই অকাট্য সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই দিল্লি পুলিশের একটি দল বর্ধমানে হানা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

হত্যার নেপথ্য কারণ ও আইনি পদক্ষেপ

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ২০২৩ সাল থেকে বর্ধমানে দেবস্মিতার পারিবারিক বাড়িতে ভাড়া থাকত এই দম্পতি। দীর্ঘ দিন ধরেই তাদের বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছিলেন দেবস্মিতা। বারবার বাড়ি খালি করার চাপ আসায় তীব্র আক্রোশ থেকে তারা এই সহকারী অধ্যাপিকাকে খুনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে সোমবার বর্ধমান আদালতে পেশ করেছে দিল্লির নিউ অশোকনগর থানার পুলিশ। সঙ্গে থাকা নাবালক সন্তানটির বয়স বারো বছরের কম হওয়ায় তাকে সরকারি হোমে রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *