সুন্দর এই ছত্রাকই কি ডেকে আনছে ফুসফুসের মরণব্যাধি! – এবেলা

সুন্দর এই ছত্রাকই কি ডেকে আনছে ফুসফুসের মরণব্যাধি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে নীলচে-সবুজ ফুলের মতো দেখতে অত্যন্ত সুন্দর এই পরজীবীটি আসলে মানবদেহের জন্য এক অদৃশ্য জল্লাদ। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, ‘অ্যাসপারজিলোসিস’ নামক এই ছত্রাক সংক্রমণ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত বাতাস ও মাটির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ছত্রাকের রেণু শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে স্থায়ী বাসা বাঁধছে, যা সাধারণ ফ্লু মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে জীবনঘাতী হতে পারে।

ঝুঁকির মুখে দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

সুস্থ ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই ছত্রাককে রুখে দিতে পারলেও ক্যানসার আক্রান্ত, অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী কিংবা এইচআইভি রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে যাঁরা সম্প্রতি কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন বা হাঁজল ও সিওপিডির মতো দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ফুসফুসের টিস্যু ধ্বংস করে এটি দ্রুত রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই সংক্রমণের উপসর্গগুলো যক্ষ্মা বা নিউমোনিয়ার মতো হওয়ায় অনেক সময় ভুল চিকিৎসায় রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও ভবিষ্যতের শঙ্কা

বিশ্ব উষ্ণায়ন ও ক্রমবর্ধমান দূষণ এই ছত্রাকের বিস্তারে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, আগে যেসব শীতল এলাকায় এই ছত্রাকের প্রকোপ ছিল না, সেখানেও এখন এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে এই সংক্রমণের হার দ্বিগুণ হতে পারে। সংক্রমণ পরবর্তী মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশের মতো উচ্চ হওয়ায় এবং এর অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত হওয়ায় এটি চিকিৎসকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

এক ঝলকে

  • অ্যাসপারজিলাস ছত্রাকটি বাতাস ও মাটির ক্ষুদ্র রেণুর মাধ্যমে মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়।
  • জ্বর, কাশি ও বুকের ব্যথার পাশাপাশি কাশির সাথে রক্ত আসা এই রোগের প্রধান লক্ষণ।
  • দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং কোভিড-পরবর্তী রোগীদের জন্য এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
  • জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রার বৃদ্ধির ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ সংক্রমণের হার দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *