‘সূচ্যগ্র মেদিনী’র লড়াই: নদিয়ায় জমির মালিকানা ঘিরে দলীয় দুই সতীর্থের নারদ-নারদ সংঘাত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কল্যাণীতে বিকল্প গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর গড়ে ওঠার ঘোষণার পর থেকেই সংলগ্ন এলাকার জমির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। আর সেই প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের কোলঘেঁষা নদিয়ার এক টুকরো বিতর্কিত জমিকে কেন্দ্র করেই এখন আড়াআড়ি বিভক্ত বিজেপির দুই বিধায়ক—রানাঘাট দক্ষিণের অসীমকুমার বিশ্বাস এবং হরিণঘাটার বিধায়ক তথা লোকশিল্পী অসীম সরকার। ব্যক্তিগত সম্পর্ক মধুর বলে দাবি করলেও, চাকদহ থানার শিমুরালির নরপতিপাড়া মৌজায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন বিতর্কিত ১১ শতক জমিতে কেউ কাউকে ‘সূচ্যগ্র মেদিনী’ ছাড়তে নারাজ।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একই ১১ শতক জমির ওপর বর্তমানে দুই বিধায়কের নামাঙ্কিত দুটি পৃথক বোর্ড ঝুলছে। দুই নেতারই দাবি, আইনি ও ঐতিহাসিক নথি যাচাই করেই তারা এই জমির প্রকৃত মালিক হয়েছেন।
রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক অসীমকুমার বিশ্বাসের বক্তব্য, ২০২১ সালে জমির সমস্ত পুরোনো নথি ও ‘চেন ডিড’ খতিয়ে দেখে নিয়ম মেনেই তিনি সম্পত্তিটি কিনেছিলেন। তাঁর সাফ কথা, “আমার সমস্ত কাগজপত্র তৈরি। কার নথি জাল তা আদালতেই প্রমাণিত হবে।” একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ২০২১ সালে তাঁর কেনা জমিতে সমস্ত জেনেও অসীম সরকার নতুন করে কেন হাত বাড়াতে গেলেন?
অন্যদিকে, হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকারও জমি ছাড়তে নারাজ। নিজের দাবির সমর্থনে তিনি ১৯৮৯ সালের ইতিহাস টেনে এনেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৮৯ সালে যমুনা রানি দত্তের থেকে জমিটি কেনেন আবুল হোসেন তরফদার। পরবর্তীতে আবুল হোসেন অশোক বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে ‘পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি’ দিলেও, আবুলের মৃত্যুর ফলে সেই চুক্তি আইনিভাবেই বাতিল হয়ে যায়। গত ২৫ অগস্ট কল্যাণীতে আবুলের ওয়ারিশদের থেকে বিএলআরও (BLRO) অফিসের নথি মিলিয়েই তিনি পুরো ৩২ শতক জমি রেজিস্ট্রি করেছেন।
রেজিস্ট্রির দিন প্রতিপক্ষ বিধায়কের অনুগামীরা রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও ইঙ্গিত দেন হরিণঘাটার বিধায়ক। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর সম্মতি ছাড়া অন্য বিধায়ক কোনও দিনও এই জমির মালিক হতে পারবেন না।
প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের সৌজন্যে জমির দাম যত বাড়ছে, জেলার চায়ের কাপে তুফান তুলে দুই বিজেপি বিধায়কের এই ‘জমি-পুরাণ’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও রগড় তত জমে উঠছে।
